বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

সূরা কুরাইশ বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, ফজিলত ও তাফসির (পূর্ণাঙ্গ গাইড)

বহুল পঠিত
  • সূরা কুরাইশ– মাক্কী সূরা, পবিত্র কুরআনের ১০৬ নম্বর সূরা
  • এই সূরায় কুরাইশ গোত্রের বিশেষ বরকত, নিরাপত্তা এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
  • সম্পূর্ণ গাইডটিতে সূরাটির বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, ফজিলত ও শিক্ষার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

সূরা কুরাইশ আরবি | Sura Quraish Arbi

সূরা কুরাইশ একটি মাক্কী সূরা, যার আয়াত সংখ্যা ৪। এটি পবিত্র কুরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। এর মূল উদ্দেশ্য কুরাইশদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করিয়ে দেওয়া।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

لِاِیۡلٰفِ قُرَیۡشٍ ۙ﴿۱

اٖلٰفِهِمۡ رِحۡلَۃَ الشِّتَآءِ وَ الصَّیۡفِ ۚ﴿۲

فَلۡیَعۡبُدُوۡا رَبَّ هٰذَا الۡبَیۡتِ ۙ﴿۳

الَّذِیۡۤ اَطۡعَمَهُمۡ مِّنۡ جُوۡعٍ ۬ۙ وَّ اٰمَنَهُمۡ مِّنۡ خَوۡفٍ ﴿۴

সূরা কুরাইশ বাংলা উচ্চারণ | Sura Quraish Bangla Uccharon

বাংলা উচ্চারণ শুধুমাত্র বোঝার ও সহায়তার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। সঠিক তেলাওয়াতের জন্য আরবি ভাষা শেখা ও শুদ্ধ উচ্চারণ অপরিহার্য।

১. লি-ঈলা-ফি ক্বুরাইশ।

২. ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশ শিতা-য়ি ওয়াস্সাইফ।

৩.ফাল ইয়া’বুদূ রব্বা হা-যাল বাইত।

৪.আল্লাযী আত্‘আমাহুম মিন জূ‘ইঁও ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।

সূরা কুরাইশ বাংলা অর্থ | Sura Quraish Meaning

এই সূরার প্রতিটি শব্দের বাংলা অর্থ:

لِاِيۡلٰفِ ‏যেহেতু আসক্তি আছেهٰذَاএই
قُرَيۡشٍۙকুরাইশদের الۡبَيۡتِۙঘরের
اٖلٰفِهِمۡ ​ۚ‏আসক্তি আছেالَّذِىۡۤযিনি
رِحۡلَةَভ্রমণেاَطۡعَمَهُمۡ তাদেরকে খাবার দিয়েছেন
الشِّتَآءِশীতেরمِّنۡহতে
وَالصَّيۡفِও গ্রীষ্মেরجُوۡعٍক্ষুধা
فَلۡيَـعۡبُدُوۡا ‏অতএব তারা ইবাদত করুক وَّاٰمَنَهُمۡএবং তাদের নিরাপত্তা দিয়েছেন
رَبَّরবেরخَوۡفٍভয়

প্রতিটি আয়াতের বাংলা অর্থ:

১। যেহেতু কুরাইশের চিরাচরিত অভ্যাস আছে।

২। অভ্যাস আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্ম সফরের।

৩। অতএব তারা ইবাদত করুক এই গৃহের প্রতিপালকের।

৪। যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং ভয় হতে দিয়েছেন নিরাপত্তা। 

সূরা কুরাইশ সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সূরা কুরাইশ পবিত্র কাবা ঘরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রিজিকের উপর আল্লাহর অপার অনুগ্রহকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি সূরা ফীলের সঙ্গেও সম্পর্কিত, যেখানে আল্লাহ কাবা ধ্বংস করতে আসা আবরাহার হস্তীবাহিনীকে ধ্বংস করেন।

সূরাটির নাজিলের প্রেক্ষাপট

এই সূরা নাজিল হয় কুরাইশ গোত্রকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে উৎসাহিত করার জন্য। আল্লাহ তাদের প্রতি দুটি বিশেষ নেয়ামত দান করেছিলেন:

১. নিরাপত্তা: তারা বিনা ভয়ে শীত ও গ্রীষ্মকালে সুদূর সিরিয়া ও ইয়েমেনে বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা করতে পারতেন।

২. রিজিক: এই বাণিজ্যের কারণে মক্কা, যা কৃষিবিহীন মরুভূমি ছিল, সেখানেও খাদ্যদ্রব্য ও প্রাচুর্য নিশ্চিত হয়েছিল।

কুরাইশ গোত্র কারা ছিল?

কুরাইশ ছিল আরবের একটি সম্মানিত ও প্রভাবশালী গোত্র, যাদের মূল উৎপত্তি নদীর ইবন কিনানাহ থেকে। সাধারণভাবে পণ্ডিতদের মতে, নদীর ইবন কিনানাহর বংশধরদেরই কুরাইশ বলা হয় এবং এ মতটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। কিছু আলেম আবার বলেন, ফিহর ইবন মালিক ইবন নাদর ইবন কিনানাহর সন্তানদের কুরাইশ নামে অভিহিত করা হয়; তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত প্রথমটিকেই বেশি প্রামাণিক বলে উল্লেখ করেছেন। – (ইমাম কুরতুবী)

হাদীসে স্পষ্টভাবে কুরাইশ গোত্রের বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন-

“আল্লাহ তাআলা ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে, কিনানাহর সন্তানদের মধ্য থেকে কুরাইশকে, কুরাইশের মধ্য থেকে বনী হাশেমকে এবং বনী হাশেমের মধ্য থেকে আমাকে নির্বাচিত করেছেন।”
সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২২৭৬

এই বংশধারা শুধু ইতিহাসেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ইসলামের সূচনা, দাওয়াত, নেতৃত্ব ও কাবা শরিফের তত্ত্বাবধানে কুরাইশ গোত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কুরাইশ নামের উৎস

কুরাইশ নামের উৎপত্তি বিষয়ে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। কেউ বলেন, “তাকরীশ (تقريش)” শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ রোজগার বা ব্যবসা–কারণ কুরাইশরা বাণিজ্যেই জীবিকা নির্বাহ করত। আবার কেউ বলেন, এর অর্থ জমায়েত বা একত্রিত করা, কারণ কুসাই ইবন কিলাব বিচ্ছিন্ন কুরাইশদের হারামের চারপাশে একত্র করেন। আরেক মতে, নামটি এসেছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শব্দার্থ থেকে—কারণ তারা হাজীদের দেখভাল করত। কিছু আলেমের মতে, কুরাইশ নামটি সাগরের একটি বিশেষ শক্তিশালী মাছ (প্রাধান্যকারী মাছ) থেকে নেওয়া, যেমন কুরাইশ গোত্রও অন্যান্য আরব গোত্রের ওপর প্রভাবশালী ছিল। (কুরতুবী)

কুরাইশদের বাণিজ্য যাত্রা

কুরাইশরা বছরে দুটি বড় বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা করত:

  • শীতকালীন যাত্রা: ইয়েমেনের দিকে।
  • গ্রীষ্মকালীন যাত্রা: সিরিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের দিকে।এই যাত্রাগুলো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু কাবার সেবক হিসেবে তাদের বিশেষ সম্মানের কারণে অন্য গোত্রের দস্যুরাও তাদের কাফেলাকে আক্রমণ করত না। এটি ছিল তাদের প্রতি আল্লাহর এক বিরাট অনুগ্রহ।

সূরা কুরাইশের মূল বিষয়বস্তু

এই সূরার মূল লক্ষ্য হলো কুরাইশ গোত্রকে আল্লাহর একক উপাসনার দিকে আহ্বান করা, যা তাঁর দেওয়া নেয়ামতগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।

আল্লাহর কৃতজ্ঞতার শিক্ষা

আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের প্রতি দেওয়া রিজিক ও নিরাপত্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন: যেহেতু তিনিই তাদের সকল নেয়ামতের উৎস, তাই তাদের উচিত কেবল তাঁরই ইবাদত করা। এটি সমস্ত মানুষের জন্য একটি মৌলিক শিক্ষা-আল্লাহর নেয়ামত পেলে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে হয়।

নিরাপত্তা ও রিজিকের বরকত

এই সূরায় আল্লাহ নিরাপত্তা এবং রিজিক (খাদ্য) – এই দুটি মৌলিক প্রয়োজনের কথা বলেছেন, যা ছাড়া মানব জীবন অচল। মক্কা মরুভূমি হওয়া সত্ত্বেও বাণিজ্য যাত্রার ফলে তারা খাদ্য পেয়েছিল এবং কাবার সেবার কারণে তারা সকল প্রকার ভয় থেকে মুক্ত ছিল। এটিই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বরকত।

কাবা শরীফের কেন্দ্রীয় ভূমিকা

আল্লাহ এই সূরায় নিজেকে “এই ঘরের (কাবা শরীফের) রব” হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে কাবা শরীফের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কাবার কেন্দ্রিকতার কারণেই কুরাইশরা নিরাপত্তা ও সম্মান লাভ করেছিল। কাবা শুধু একটি ইবাদতের স্থান নয়, এটি তাদের জীবিকা ও নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুও ছিল।

সূরা কুরাইশের ফজিলত | Surah Quraish Fazilat

যদিও নির্দিষ্ট করে এই সূরাটির বিশেষ কোনো ফজিলতের বর্ণনা সহীহ হাদিসে পাওয়া যায় না, তবে কুরআনের অংশ হিসেবে এর তেলাওয়াতের সাধারণ ফজিলত ও উপকারিতা রয়েছে।

  • সাধারণ সাওয়াব: কুরআনের প্রতিটি হরফ বা অক্ষর পাঠের জন্য ১০টি করে সাওয়াব (নেকি) পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:”যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পড়বে, তার জন্য তার বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে, আর একটি নেকির দশগুণ দেওয়া হবে।” (সহীহ তিরমিযী: ২৯১০)
  • তাওহীদের প্রতি দৃঢ়তা: এই সূরায় আল্লাহর ইবাদতের দিকে সরাসরি আহ্বান থাকায়, এটি পাঠ ও অনুধাবন করলে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্বের প্রতি মুমিনের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।
  • দৈনন্দিন জীবনে উপকার: তাফসীর এবং আলেমদের মতানুযায়ী, আল্লাহর নেয়ামত ও নিরাপত্তার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ায় এই সূরাটি:
    • রিজিকের বরকতের জন্য পড়া হয়।
    • ভ্রমণকালে নিরাপত্তার জন্য তেলাওয়াত করা হয়।

সূরা কুরাইশ পড়ার উপকারিতা

আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ায় সূরা কুরাইশ মুমিনের জীবনে কিছু বিশেষ উপকার নিয়ে আসে:

  • মানসিক শান্তি: আল্লাহর নিরাপত্তা ও রিজিকের ওয়াদা স্মরণ করার মাধ্যমে অন্তরে এক প্রকার মানসিক শান্তি ও নির্ভরতা আসে।
  • বিপদ থেকে নিরাপত্তা: আল্লাহ কুরাইশদের ভয়-ভীতি থেকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে, এই সূরা পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে নিরাপত্তা ও আশ্রয় কামনা করা যায়।
  • রিজিকের বরকত: এই সূরার মূল বিষয়বস্তুই হলো রিজিকের প্রাচুর্য। ফলে রিজিক বৃদ্ধির জন্য এটি তেলাওয়াত করতে পারেন।
  • তাওহীদের প্রতি দৃঢ়তা: সবকিছুর বিনিময়ে কেবল আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান মুমিনকে তাঁর দ্বীনের প্রতি আরও দৃঢ় করে তোলে।

সূরা কুরাইশ কখন পড়া যায়?

পবিত্র কুরআনের যে কোনো সূরা যে কোনো সময় পড়া যায়, তবে সূরা কুরাইশ বিশেষ কিছু সময় বা অবস্থায় তেলাওয়াত করা অধিক উপযোগী:

  • দৈনন্দিন আমল: প্রতিদিনের সালাতের সাথে পড়া যায়।
  • ভ্রমণ বা ব্যবসার সময়: আল্লাহর কাছে ভ্রমণের নিরাপত্তা ও ব্যবসায় বরকত চাওয়ার উদ্দেশ্যে।
  • রিজিক বৃদ্ধির দোয়া হিসেবে: প্রাচুর্য ও বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার সময় এই সূরা তেলাওয়াত করতে পারেন ।

সূরা কুরাইশের তাফসির | Surah Quraish Tafseer

এই সূরার প্রতিটি আয়াতের সরল তাফসির বা ব্যাখ্যা এখানে তুলে ধরা হলো:

আয়াত ১ ব্যাখ্যা: “লি ইলা-ফি ক্বুরাইশ”

অর্থ: কুরাইশদের অভ্যস্ত করার উদ্দেশ্যে।

তাফসির: আল্লাহ তাআলা এই সূরায় কুরাইশ গোত্রের উপর তাঁর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন। এই “অভ্যস্ত করা” বা “ঈলা-ফ” (لِإِيلاَفِ) বলতে বোঝানো হয়েছে, আল্লাহ কুরাইশদের এমন নিরাপত্তা ও সচ্ছলতা দান করেছিলেন যে তারা বিনা বাধায় বাণিজ্যের জন্য ভ্রমণ করতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। এই ‘ঈলাফ’ ছিল একটি শক্তিশালী বন্ধন বা চুক্তি, যা তাদেরকে নিরাপত্তা এনে দিত।

আয়াত ২ ব্যাখ্যা: “ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশ শিতা-য়ি ওয়াস্সাইফ”

অর্থ: তাদের অভ্যস্ততার (নিরাপদ রাখার) কারণে শীত ও গ্রীষ্মের বাণিজ্যিক ভ্রমণে।

তাফসির: এটি প্রথম আয়াতের ব্যাখ্যা। আল্লাহ স্পষ্টভাবে কুরাইশদের দুটি প্রধান বাণিজ্য কাফেলার কথা উল্লেখ করেছেন—শীতকালীন যাত্রা (ইয়েমেনে) এবং গ্রীষ্মকালীন যাত্রা (সিরিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে)। এই মরুভূমিতে দূর-দূরান্তে বাণিজ্য করে সচ্ছল জীবনযাপন করা শুধুমাত্র আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা ও বরকতের ফলেই সম্ভব হয়েছিল।

আয়াত ৩ ব্যাখ্যা: “ফাল ইয়া’বুদূ রব্বা হা-যাল বাইত”

অর্থ: অতএব, তারা যেন এই ঘরের (কাবা শরীফের) রবের ইবাদত করে।

তাফসির: যখন আল্লাহ তাদের দুটি প্রধান নেয়ামতের (নিরাপত্তা ও রিজিক) কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন, তখন সঙ্গে সঙ্গেই ইবাদতের আহ্বান জানালেন। যেহেতু এই সকল সুবিধা তাদেরকে স্বয়ং কাবা শরীফের রবের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তাই কৃতজ্ঞতা হিসেবে তারা কেবল তাঁরই উপাসনা করবে। ইবাদতের এই নির্দেশটি ছিল নেয়ামতদাতার হক।

আয়াত ৪ ব্যাখ্যা: “আল্লাযী আত্‘আমাহুম মিন জূ‘ইঁও ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ”

অর্থ: যিনি তাদেরকে ক্ষুধার সময় অন্ন দান করেছেন এবং ভয়-ভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।

তাফসির: এই আয়াতটি তৃতীয় আয়াতের সমর্থনে এসেছে এবং নেয়ামত দুটিকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

১. ক্ষুধা থেকে অন্ন: মক্কা ছিল অনুর্বর ভূমি, যেখানে কোনো ফসল জন্মাত না। কিন্তু বাণিজ্য যাত্রার কারণে সেখানে খাদ্যদ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল।

২. ভয় থেকে নিরাপত্তা: হাতি বাহিনীর আক্রমণ থেকে কাবা রক্ষা পাওয়ার পর থেকে কুরাইশদের সম্মান আরও বেড়ে গিয়েছিল। ফলে কোনো দস্যু বা বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করতে সাহস পেত না, তারা নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করতে পারত।

সূরা কুরাইশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ Schema Ready)

কোথায় নাজিল হয়?

সূরা কুরাইশ একটি মাক্কী সূরা– অর্থাৎ এটি মক্কায় নাজিল হয়েছে।

সূরা কুরাইশ থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?

এই সূরা আমাদের শেখায়- আল্লাহই রিজিকদাতা, নিরাপত্তাদাতা এবং সমস্ত নিয়ামতের উৎস। তাই কৃতজ্ঞতা ও একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে অটল থাকা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।

কুরাইশ শব্দের অর্থ কী?

‘কুরাইশ’ অর্থ ব্যবসায়িক রোজগার, একত্রিত জাতি, অথবা প্রভাবশালী গোত্র। বিভিন্ন ব্যাখ্যায় শব্দটি শক্তি, প্রাধান্য ও ঐক্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

সূরা কুরাইশ এর বাংলা অর্থ কী?

সূরা কুরাইশে আল্লাহ কুরাইশদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন- তাদের নিরাপদ ভ্রমণ, রিজিক এবং কাবার সেবা করার মর্যাদা উল্লেখ করেছেন এবং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কুরাইশরা কারা ছিল?

কুরাইশ ছিল মক্কার সবচেয়ে সম্মানিত ও শক্তিশালী আরব গোত্র। তারা ইসমাঈল (আ.)–এর বংশধর, যারা কাবার সেবা, হাজীদের দায়িত্ব পালন ও বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।

সূরা কুরাইশ এর পরের সূরা কোনটি?

পরের সূরা হলো সূরা আল-মাউন

সূরা কুরাইশ কেন নাজিল হয়েছিল?

এই সূরা নাজিল হয় কুরাইশদের প্রতি আল্লাহর দেওয়া বিশেষ নিয়ামত স্মরণ করিয়ে দিতে- যাতে তারা আল্লাহর রিজিক, নিরাপত্তা ও সম্মানের বিনিময়ে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে স্থির থাকে।

সূরা কুরাইশ কোন পারায়?

পবিত্র কুরআনের ৩০তম পারায় (আম্মাপারা) অবস্থিত।

সূরা কুরাইশ কত আয়াত?

সূরা কুরাইশের আয়াত সংখ্যা ৪টি

শেষকথা

সূরা কুরাইশ একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সূরা। এটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের মৌলিক চাহিদা- খাদ্য (রিজিক) এবং নিরাপত্তা-শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। এই নেয়ামতগুলো যখন আমরা পাই, তখন আমাদের উচিত একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

আসুন, আমরা সকলে কুরআনুল কারিমের এই সূরাটি মনোযোগ সহকারে পাঠ করি এবং এর শিক্ষাকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করি।

১. সূরা কাফিরুন: বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

২. সূরা আসর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

৩. সূরা ফাতিহা বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত 

৪. সূরা আদ দুহার বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, তাফসীর ও ফজিলত

৫. সূরা মাউন বাংলা উচ্চারণসহ অর্থ ও ফজিলত

৬. সূরা লাহাব বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও তাফসীর 

৭. সূরা ইখলাস – বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

৮. সূরা ফালাকের বাংলা উচ্চারণ, আরবি, অর্থ ও তাফসীর

৯. সূরা ফীল বাংলা উচ্চারণ, আরবি, অর্থ, তাফসীর ও ফজিলত – সম্পূর্ণ গাইড

১০. সূরা কদরের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ: লাইলাতুল কদরের মহিমা, আমল ও ফজিলত

১১. পড়া মনে রাখার দোয়া, অর্থ ও ফজিলত

১২. সূরা কাউসারের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

১৩. সূরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

১৪. দরুদ শরীফের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | ফজিলত, ব্যাখ্যা সহ সম্পূর্ণ গাইড

১৫. দোয়া মাসুরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ : একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড

১৬. আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত 

১৭. আয়াতুল কুরসির ফজিলত

১৮. আয়াতুল কুরসি – পরিচিতি, নাজিলের স্থান, পড়ার নিয়ম

আরো পড়ুন

দাকাতুল ফিতরের হার নির্ধারণ: জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা, সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা

চলতি বছরের সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরা)-এর হার নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা ফিতরা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রমযানের প্রস্তুতি: আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতির পূর্ণ গাইড

রমযান কেবল একটি মাস নয়, এটি হলো আত্মিক জাগরণের সময়। এই মাসে মানুষের হৃদয় আলোর প্রতিফলনে ভরে ওঠে, মন শান্ত হয় এবং আত্মা আল্লাহর দিকে ঝুঁকে।

ষষ্ঠ তারাবি: শয়তান থেকে বাঁচার পথ ও ইসলামের শিক্ষা

ষষ্ঠ তারাবিতে পঠিত হলো সূরা আরাফ (১২–২০৬) ও সূরা আনফাল (১–৪০)। আজকের পাঠের মূল বার্তা: শয়তান মানুষকে উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথে প্রলুব্ধ করে, আর আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ থাকি।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ