শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬

মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য উন্মোচনের পথে নাসা: কসমিক ভয়েডের পূর্ণ মানচিত্র তৈরি করবে রোমান টেলিস্কোপ

বহুল পঠিত

মহাবিশ্ব শুধু অসংখ্য গ্যালাক্সিতে ভরা নয়- এটি ভরা অজানা রহস্যেও। সেই রহস্যের অন্যতম বড় অধ্যায় হলো কসমিক ভয়েড (Cosmic Void)– গ্যালাক্সির মাঝখানে থাকা বিশাল শূন্য অঞ্চল। এবার এই রহস্যময় শূন্যতাগুলোর সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নাসা

এই যুগান্তকারী কাজটি করবে নাসার অত্যাধুনিক Nancy Grace Roman Space Telescope। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের গঠন, বিস্তার এবং ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি সম্পর্কে বিপ্লবী নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।

কী এই কসমিক ভয়েড

বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে। কিন্তু এগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে নেই। বরং গ্যালাক্সিগুলো এক ধরনের বুদবুদ-সদৃশ জাল (Cosmic Web) তৈরি করে।

এই বুদবুদের ভেতরের প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা অঞ্চলগুলোকেই বলা হয় কসমিক ভয়েড– যেখানে গ্যালাক্সি খুবই কম অথবা প্রায় নেই বললেই চলে।

কেন ভয়েড এত গুরুত্বপূর্ণ

গবেষকদের মতে, এই শূন্য অঞ্চলগুলোই হতে পারে ডার্ক এনার্জি বোঝার চাবিকাঠি। কারণ-

  • যেখানে পদার্থ কম, সেখানে ডার্ক এনার্জির প্রভাব বেশি স্পষ্ট
  • মহাবিশ্বের দ্রুত সম্প্রসারণ কেন ঘটছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে
  • ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা সহজ হবে

অর্থাৎ, যা নেই- সেই শূন্যতাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

রোমান টেলিস্কোপ কীভাবে কাজ করবে

এই গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হবে রোমান টেলিস্কোপের বিশেষ জরিপ কর্মসূচি-
High Latitude Wide-Area Survey

এর মাধ্যমে-

  • গ্যালাক্সি সমতল থেকে দূরের বিশাল আকাশ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হবে
  • হাজার হাজার কসমিক ভয়েড শনাক্ত করা সম্ভব হবে
  • কিছু ভয়েডের ব্যাস হতে পারে প্রায় ২ কোটি আলোকবর্ষ

রোমান টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণ করবে প্রায় ২,৪০০ বর্গডিগ্রি আকাশ, যা প্রায় ১২ হাজার পূর্ণিমার চাঁদের সমান এলাকা। এটি এতটাই সংবেদনশীল যে অত্যন্ত দূরের ও ক্ষীণ গ্যালাক্সিও শনাক্ত করতে পারবে

মহাবিশ্ব বোঝার পথে নতুন দিগন্ত

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে-

  • মহাবিশ্ব কীভাবে গঠিত হয়েছে
  • সময়ের সঙ্গে কীভাবে বিস্তৃত হচ্ছে
  • ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি কীভাবে কাজ করে

এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা অনেকটাই সহজ হবে।

সব মিলিয়ে, নাসার এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা– যেখানে শূন্যতাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরো পড়ুন

বাতাস থেকে পানি: নোবেলজয়ী ওমর ইয়াগির আবিষ্কার বদলে দেবে বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে যখন সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় মানবজাতির জন্য এক যুগান্তকারী আশার বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ওমর ইয়াগি।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত: লাখো চাকরির সুযোগ

আধুনিক প্রযুক্তির “হৃৎপিন্ড” হিসেবে পরিচিত সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্বের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট—প্রায় সব ডিভাইসেই সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার অপরিহার্য।

অ্যাপল আনছে এআই-ভিত্তিক স্মার্ট চশমা, পেনড্যান্ট ও ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপডস

টেক জগতের জায়ান্ট অ্যাপল (Apple Inc.) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক তিনটি নতুন ডিভাইস বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মার্ট চশমা, এআই-চালিত পেনড্যান্ট এবং ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপডস,
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ