জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য এক বিরাট সুখবর নিয়ে এসেছে এর অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা। এখন থেকে আর প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা গুনে ভেরিফায়েড ব্যাজ বা ব্লু টিক কিনতে হবে না। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে চললেই একদম বিনামূল্যে বা ফ্রিতেই নিজের ফেসবুক প্রোফাইল ভেরিফাই করার সুযোগ মিলবে।
‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামের এই নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্টারনেটে ভুয়া অ্যাকাউন্ট কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া পরিচয় বা ডিপফেক সহজে শনাক্ত করা। আপনি যদি একজন নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারকারী হন, তবে কীভাবে এই সুবিধা পাবেন এবং এর শর্তগুলো কী কী চলুন তা সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।
বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ কীভাবে পাবেন?
মেটার এই নতুন ফ্রি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও দ্রুতগতির রাখা হয়েছে। জটিল কোনো কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা এতে থাকছে না।
ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার মূল ধাপটি হলো একটি সংক্ষিপ্ত সেলফি ভিডিও জমা দেওয়া।
১. আবেদন করার সময় ফেসবুক আপনার কাছ থেকে একটি ছোট সেলফি ভিডিও চাইবে।
২. মেটার আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি ভিডিওটির সঙ্গে আপনার প্রোফাইল ছবির মিল বা মুখাবয়ব নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করবে।
৩. সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং আপনার পরিচয় নিশ্চিত হলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়ে যাবে ভেরিফায়েড ব্যাজ।
কারা পাবেন এই সুবিধা? (আবেদনের প্রধান শর্তাবলি)
ফ্রিতে ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার সুবিধাটি চালু হলেও মেটা কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সবাই চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যাজ পাবেন না।
- বয়সের সময়সীমা: আবেদনকারী ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই অন্তত ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
- পরিচ্ছন্ন ট্র্যাক রেকর্ড: অ্যাকাউন্টে পূর্বে কোনো প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো বা মেটার কমিউনিটি গাইডলাইন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের রেকর্ড থাকা যাবে না।
- সঠিক প্রোফাইল তথ্য: প্রোফাইল ছবি ও অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য আসল এবং সঠিক হতে হবে।
আপনার প্রোফাইলে যদি অতীতে কোনো বড় ধরনের ভায়োলেশন বা ওয়ার্নিং এসে থাকে, তবে এই ফ্রি ভেরিফিকেশনের আবেদন বাতিল হতে পারে।
ফ্রি ব্যাজটি ফেসবুকের কোথায় কোথায় দেখা যাবে?
একবার আপনার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে গেলে এই ব্যাজটি পুরো ফেসবুক প্ল্যাটফর্মজুড়েই কাজ করবে। প্রথম পর্যায়ে এটি নিচের জায়গাগুলোতে প্রদর্শিত হবে:
- আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইল
- বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ
- পণ্য কেনাবেচার মার্কেটপ্লেস
- ফেসবুক ডেটিং সেবা
মেটা জানিয়েছে, পরবর্তীতে ব্যবহারকারীদের মূল নিউজফিডের পোস্টে এবং মন্তব্যেও এই ব্যাজ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অনলাইন কেনাকাটা বা মেসেজিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
মেটা ভেরিফায়েড (টাকা দিয়ে নেওয়া) এবং ফ্রি ভেরিফায়েড-এর পার্থক্য
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কি আগের টাকা দিয়ে নেওয়া ‘মেটা ভেরিফায়েড’ বন্ধ হয়ে যাবে? উত্তর হলো, না।
মেটা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ফ্রি সেবাটি প্রচলিত ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সাবস্ক্রিপশনের বিকল্প নয়। এই দুটির মধ্যে বড় কিছু তফাৎ রয়েছে:
| বিষয় | ফ্রি ফেসবুক ভেরিফায়েড | পেইড মেটা ভেরিফায়েড |
| খরচ | একদম ফ্রি বা বিনামূল্যে | প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ফি দিতে হয় |
| মূল উদ্দেশ্য | শুধু ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা | পরিচয় নিশ্চিতের সাথে প্রিমিয়াম সুবিধা |
| গ্রাহক সহায়তা | কোনো অতিরিক্ত কাস্টমার সাপোর্ট মিলবে না | সরাসরি ও দ্রুত কাস্টমার সাপোর্ট সুবিধা |
| অতিরিক্ত ফিচার | সাধারণ ভেরিফিকেশন ব্যাজ | প্রোফাইল সুরক্ষা ও বিশেষ প্রিমিয়াম ফিচার |
সহজ কথায়, যারা শুধুমাত্র নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করতে চান, তাদের জন্য ফ্রি সার্ভিসটি উপযুক্ত। আর যারা ব্যবসার কাজে বা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রিমিয়াম সাপোর্ট চান, তারা পেইড সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করতে পারেন।
কবে নাগাদ বাংলাদেশে পাওয়া যাবে এই সুবিধা?
মেটা জানিয়েছে, তারা প্রথম ধাপে বিশ্বের কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা চালু করছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের সব দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে।
সাইবার অপরাধ, ভুয়া আইডি দিয়ে স্ক্যাম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি রোধ করতে এই উদ্যোগ ফেসবুককে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
ফেসবুকের এই উদ্যোগটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় এক স্বস্তির খবর। ফ্রিতে ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার সুযোগ চালু হলে প্ল্যাটফর্মে ভুয়া অ্যাকাউন্টের দাপট অনেকটাই কমে আসবে। আপনি যদি সব শর্ত পূরণ করে থাকেন, তবে খুব শীঘ্রই আপনার ফেসবুকেও এই অপশনটি দেখতে পাবেন।
তাই এখন থেকেই নিজের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখুন এবং মেটার কমিউনিটি গাইডলাইন মেনে চলুন!




