জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানাজার পূর্বে বলেন, “ওসমান হাদি আমাদের বুকের ভেতর আছেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন তিনি সবার হৃদয়ে থাকবেন। প্রিয় হাদি, আমরা তোমাকে বিদায় দিতে আসিনি। তুমি আমাদের বুকের ভেতর আছো। এটা কেউ কখনও সরাতে পারবে না। আমাদের ওয়াদা, তোমার কথা আমরা পূরণ করব।”
ড. ইউনূস আরও বলেন, “ওসমান হাদির মন্ত্র ছিল ‘বল বীর, চির উন্নত মম শির’। তিনি আমাদের মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। এই মন্ত্র আমাদের অন্তরে চিরকাল অম্লান থাকবে।”
মরদেহের গতিবিধি ও নিরাপত্তা
শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। তার সাথে ছিলেন স্বজন, সহযোদ্ধা এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
ময়নাতদন্ত শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে মরদেহ ফের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আনা হয় এবং সেখানে হাদিকে শেষ গোসল করানো হয়। গোসল শেষে মরদেহ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার জন্য নিয়ে আসা হয়।
দুপুর আড়াইটায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজার অংশগ্রহণকারীর ভিড় লক্ষণীয় ছিল। উপস্থিত ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
রাষ্ট্রীয় শোক ও সমাহিতি
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
জানাজা শেষে হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে, ক্যাম্পাসে ভিড় এড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হবে।
শহীদ ওসমান হাদির জীবন ও কর্ম
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে আহত করে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরিবারের ইচ্ছায় এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শহীদ ওসমান হাদির কর্মযাত্রা, আদর্শ এবং নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।