রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও যুদ্ধোত্তর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির ‘নিরাপত্তা গ্যারান্টি’ ও যুদ্ধ পরবর্তী ‘পুনর্গঠন প্যাকেজ’ নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে ইউক্রেনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর হতে পারে।
দাভোসে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা
শুক্রবার চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেলের সঙ্গে কিয়েভে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রাশিয়ার প্রকৃত অবস্থান কী—তা স্পষ্টভাবে জানতেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন,
“মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা ভালো পর্যায়ে রয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।”
এর আগে চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, দাভোসে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
৮০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ইতোমধ্যে একটি বিস্তৃত ‘রিকভারি ও উন্নয়ন প্যাকেজ’ প্রস্তুত করেছে, যার আওতায় যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন হবে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এছাড়া ভবিষ্যতে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি আদায়ের বিষয়টিও এই আলোচনার অন্যতম মূল লক্ষ্য।
মিয়ামিতে বৈঠক, নেতৃত্বে শীর্ষ কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিষিনা জানিয়েছেন, শনিবার মিয়ামিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন-
- প্রেসিডেন্ট দপ্তরের প্রধান কিরিলো বুদানভ
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ
- সংসদীয় দলের প্রধান দাভিদ আরাখামিয়া
রাষ্ট্রদূত স্টেফানিষিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এই সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া সম্পন্ন করা, যা দাভোসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।
শান্তি কাঠামো নিয়ে চাপ ও মতবিরোধ
ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে একটি শান্তি কাঠামোতে সম্মত হতে চাপ দিচ্ছে, যা পরে রাশিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হবে। তবে কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা নিশ্চিত করতে চায়, ভবিষ্যতে যেন ইউক্রেন আর কোনো আগ্রাসনের মুখে না পড়ে।
এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন,
“আল্টিমেটাম বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক সম্পর্কের জন্য কার্যকর কোনো পথ নয়।”
ট্রাম্প–জেলেনস্কি উত্তেজনা ও পাল্টা অভিযোগ
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া শান্তিচুক্তিতে আগ্রহী হলেও জেলেনস্কি নাকি ততটা প্রস্তুত নন। তবে ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থান এর বিপরীত।
জেলেনস্কি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, রাশিয়াই শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। তিনি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক রুশ হামলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন-
“আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও শহরগুলোতে হামলা প্রমাণ করে, রাশিয়া শান্তি নয়—আরও ধ্বংস চায়।”
তিনি বিদ্যুৎ গ্রিড সুরক্ষায় আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
সুত্র: রয়টার্স





