Saturday, October 31, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে জামায়াত আমিরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

বহুল পঠিত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পথে বড় অগ্রগতি এলো। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছেন, যেখানে পারস্পরিক শুল্কহার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, একই অঞ্চলের পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্র-মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশের জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা

বৈঠকের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান এই উদ্যোগের জন্য রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের জন্য “অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক” উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এতে প্রমাণ হয় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।

পোশাক খাতে বিশেষ শুল্ক সুবিধা: দুই দেশের জন্য ‘উইন-উইন’

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ১০০ শতাংশ তুলা অথবা ম্যানমেড ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশি পোশাকের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবকেও স্বাগত জানান জামায়াত আমির।

তিনি বলেন,
“এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বহুগুণ বাড়বে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাত নতুন বাজার পাবে। এটি নিঃসন্দেহে দুই দেশের জন্যই একটি উইন-উইন ফর্মুলা।”

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়ন শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে।

ডিএফসি তহবিল: বিনিয়োগে নতুন সুযোগ

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (DFC)-এর তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের ইতিবাচক অবস্থানকে বড় সুখবর হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ পেলে অবকাঠামো, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন গতি আসবে এবং বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।

সারসংক্ষেপ

এই বৈঠককে কূটনৈতিক মহল দেখছে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায় হিসেবে। শুল্ক সুবিধা, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং বাজার সম্প্রসারণ- সব মিলিয়ে এ উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য হতে পারে বড় এক ইতিবাচক মোড়।

আরো পড়ুন

ডিজিটাল সার্ভিস রপ্তানি: গার্মেন্টসের পর বাংলাদেশের পরের সম্ভাবনা কোথায়?

গার্মেন্টসের পর বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা সফটওয়্যার, আইটি-সক্ষম সেবা আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে, অর্থাৎ যে সেবা ইন্টারনেটে বিদেশে পাঠানো যায়। সরকারি হিসাবে এই খাতের আয় এখনো এক...

তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা ঋণ: আবেদন করবেন যেভাবে

বাংলাদেশে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এক দারুণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে আরও গতিশীল করতে এবং...

বিশ্বসেরা ৫০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক: দেশের ব্যাংকিং খাতের নতুন ইতিহাস

বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশ করেছে ‘ওয়ার্ল্ডস টপ পারফর্মিং ব্যাংকস ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক তালিকা। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার সহায়তায় তৈরি করা এই তালিকায় স্থান...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ