আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ডালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও ১০ হাজার টন মসুর ডাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির চলতি বছরের চতুর্থ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাজার নিয়ন্ত্রণেই এই উদ্যোগ
সভা শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন,
“রমজান সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে লক্ষ্যেই ডাল ও ভোজ্যতেলের বড় পরিসরের এই ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
১০ হাজার টন মসুর ডাল: দাম কেজিতে ৭০.৯৬ টাকা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী—
- স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কেবিসি অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে
- উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০টি লটে
- ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হবে
এতে মোট ব্যয় হবে ৭০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
প্রতি কেজি ডালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা।
এক কোটি লিটার সয়াবিন তেল: দুই কোম্পানি থেকে সংগ্রহ
ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কিনছে-
- ৫০ লাখ লিটার সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে (প্রতি লিটার ১৮৫.৯৫ টাকা)
- ৫০ লাখ লিটার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে (প্রতি লিটার ১৮৫.৯০ টাকা)
মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
কৃষি উৎপাদন জোরদারে সার আমদানিও অনুমোদন
একই সভায় কৃষিখাতের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ৭৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে-
ইউরিয়া সার
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে
- পরিমাণ: ৪০ হাজার টন
- ব্যয়: ২০১ কোটি ২২ লাখ টাকা
- প্রতি টন: ৪১০ ডলার
এমওপি সার
- রাশিয়ার জেএসসি প্রডিন্টর্গ থেকে
- পরিমাণ: ৩৫ হাজার টন
- আমদানিকারক: বিএডিসি
- ব্যয়: ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা
ব্লু ইকোনমির অংশ হিসেবে গবেষণা জাহাজ
সরকারের ব্লু ইকোনমি উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জন্য-
- একটি ছোট গবেষণা জাহাজ
- দুটি স্পিড বোট
ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মোট ব্যয় হবে ১৬১ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা সরবরাহ করবে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড।
স্বস্তির বার্তা ভোক্তাদের জন্য
বিশ্লেষকদের মতে, রমজানের আগে বড় পরিসরে ডাল ও তেল সংগ্রহের এই সিদ্ধান্ত বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ, মজুতদারি ঠেকানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





