বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ঘাম এবং তৃষ্ণা। এই গরমে শরীরকে সতেজ রাখতে আমরা অনেকেই ফ্রিজের বরফ ঠান্ডা পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, তৃষ্ণা মেটানোর এই অভ্যাসটি সবসময় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে। বিশেষ করে তীব্র রোদে বাইরে থেকে আসার পরপরই বরফ পানি পান করা শরীরের জন্য হতে পারে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
কেন অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলা উচিত
অনেকের ধারণা আছে যে, ঠান্ডা পানি খেলে শরীরের চর্বি বা ফ্যাট বেড়ে যায়, যা সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। তবে ঠান্ডা পানির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা উপেক্ষা করার উপায় নেই। আসুন জেনে নিই কেন অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলা উত্তম:
- তাপমাত্রার ভারসাম্যহীনতা: প্রচণ্ড রোদে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। এই অবস্থায় হঠাৎ বরফ ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য বেশ চাপ সৃষ্টি করে।
- সর্দি-কাশির ভয়: হঠাৎ খুব ঠান্ডা পানি পানে গলায় অস্বস্তি শুরু হতে পারে। এটি ফুসফুসে কফ জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং সাধারণ সর্দি-কাশির প্রবণতা তৈরি করে।
- দাঁতের ব্যথা: যাদের দাঁত শিরশিরানি বা সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের জন্য আইস-কোল্ড পানি পান করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি দাঁতে তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে।
গরমে পানি পানের সঠিক নিয়ম
গরমে পানি পান করা বন্ধ করা যাবে না, কারণ শরীর হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরী পরামর্শ দিয়েছেন, একেবারে বরফ ঠান্ডা পানি না খেয়ে স্বাভাবিক পানি বা সামান্য ঠান্ডা পানি মিশিয়ে পান করাই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
প্রতিদিনের পানীয় তালিকায় যা রাখবেন
শুধু পানিই নয়, গরমের এই সময়ে শরীরে খনিজ লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখতে অন্যান্য পানীয়ও গ্রহণ করা জরুরি।
- ডাবের পানি: এতে রয়েছে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট যা শরীরকে দ্রুত সতেজ করে তোলে।
- ঘোল বা মাঠা: পেট ঠান্ডা রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে দইয়ের ঘোল দারুণ কার্যকর।
- ঘরের তৈরি শরবত: বাইরের কৃত্রিম পানীয় এড়িয়ে বাড়িতে তৈরি লেবুর শরবত বা ফলের রস পান করুন। তবে মনে রাখবেন, এসব পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি মেশানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
হালকা গরম পানির উপকারিতা
আপনি কি জানেন? প্রচণ্ড গরমেও হালকা গরম পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন, সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখতে। এটি হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
গরমে সুস্থ থাকার টিপস
গরমের এই প্রতিকূল সময়ে সুস্থ থাকতে নিজের জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:
১. পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন। তৃষ্ণার জন্য অপেক্ষা করবেন না, নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করুন।
২. বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন: রাস্তার খোলা পানীয় বা শরবত না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
৩. সঠিক পোশাক: হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন যাতে ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং শরীর ঠান্ডা থাকে।
৪. সুষম খাবার: অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করুন।
গরমে ঠান্ডা পানি পান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এটি পান করার উপায়টি হতে হবে সঠিক। সচেতনতা অবলম্বন করলে এবং নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই এই তীব্র গরমেও সুস্থ ও সতেজ থাকা সম্ভব। আজ থেকেই বরফ পানি খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। সুস্থ থাকুন এবং গরমে নিরাপদ থাকুন।




