হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও বড়দেরও হতে পারে। সঠিক সচেতনতা ও পরিচর্যার মাধ্যমে হাম থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। আজকের প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব হাম হলে ঘরে বসে কী ধরনের যত্ন নিতে হয় এবং কখন সতর্ক হতে হবে।
হামের প্রাথমিক লক্ষণসমূহ
কোনো শিশুর শরীরে হাম হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:
- তীব্র জ্বর।
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং চোখ দিয়ে পানি পড়া।
- প্রচণ্ড কাশি ও সর্দি।
- মুখের ভেতরে সাদা দানার মতো ছোট ছোট দাগ (কপলিক স্পট)।
- কয়েক দিন পর সারা শরীরে লাল রঙের র্যাশ বা ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া।
হাম হলে বাড়িতে করণীয় (প্রতিকার)
হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাস চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক পরিচর্যা রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে:
১. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. প্রচুর তরল খাবার: জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে। তাই রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, ডাবের পানি বা স্যুপ খাওয়াতে হবে।
৩. পুষ্টিকর খাবার: রোগীকে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার যেমন খিচুড়ি, মাছ, সবজি ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-এ যুক্ত খাবারের ওপর গুরুত্ব দিন।
৪. আলাদা রাখা (আইসোলেশন): হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে এবং রোগীর ব্যবহৃত তোয়ালে বা কাপড় অন্যদের ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
৫. জ্বর নিয়ন্ত্রণ: শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
সাধারণত হাম এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে নিচের বিপদসংকেতগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিতে হবে:
- যদি জ্বর ১০২-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি থাকে।
- যদি রোগী শ্বাসকষ্টে ভোগে।
- যদি রোগী অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে বা বারবার বমি করে।
- যদি বাচ্চার কান ব্যথা বা কান দিয়ে পুঁজ পড়ে।
- যদি রোগী খুব বেশি নিস্তেজ হয়ে পড়ে বা অস্বাভাবিক আচরণ করে।
প্রতিরোধই উত্তম প্রতিকার
হাম থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায় হলো টিকা। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুকে সঠিক সময়ে হামের টিকা দিন। এছাড়া আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই হলো এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
সতর্কবার্তা: হাম হলে কোনো ধরনের অপচিকিৎসা বা কুসংস্কারের আশ্রয় নেবেন না। কোনো জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।




