বর্তমানে চলমান তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে হিট স্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সময়টা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অসহনীয় এই গরমে ঘর ঠান্ডা রাখা এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু কার্যকর কৌশল নিচে দেওয়া হলো:
ঘর ঠান্ডা রাখার সহজ উপায়
ঘরকে বাইরের উত্তাপ থেকে দূরে রাখতে কিছু কৌশল মেনে চলা জরুরি:
- জানালা ও পর্দা: দিনের বেলা বাইরের গরম বাতাস ঘরে ঢুকতে দেবেন না; জানালা বন্ধ রেখে মোটা পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন। সন্ধ্যার পর যখন বাতাস কিছুটা ঠান্ডা হয়, তখন জানালা খুলে দিন।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি: অপ্রয়োজনীয় লাইট ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখুন, কারণ এগুলো ঘরকে ভেতর থেকে গরম করে তোলে।
ফ্যান ও এসির সঠিক ব্যবহার
- ফ্যানের ব্যবহার: তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ফ্যান ব্যবহার করুন। তবে এর বেশি তাপমাত্রা হলে গরম বাতাসের প্রবাহ শরীরকে আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
- এসির স্মার্ট ব্যবহার: এসি ব্যবহার করলে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সেট করুন এবং এর সাথে সিলিং ফ্যান চালান। এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং বিদ্যুৎ খরচও অনেকটা সাশ্রয় হয়।
শরীরের বিশেষ যত্ন
- পোশাক: হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন। সুতি কাপড় ঘাম শোষণ করে শরীরকে আরাম দেয়।
- গোসল: দিনে একাধিকবার ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। শরীরের তাপমাত্রা বেশি মনে হলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে নিন বা পানির স্প্রে ব্যবহার করুন।
- পানি ও পানীয়: তৃষ্ণা পাক বা না পাক, প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন। প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির অভাব আছে।
খাবার ও জীবনযাত্রায় সতর্কতা
- যা এড়িয়ে চলবেন: ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত চিপস এবং উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। ক্যাফেইন ও বেশি ফ্যাটযুক্ত খাবার শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য ও উত্তপ্ত করে তোলে।
- বিশেষ সতর্কতা: যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা আছে, তাঁদের এই গরমে বাড়তি নজর রাখতে হবে।
সতর্কবার্তা: তীব্র গরমে মাথা ঘোরা, বমিভাব, প্রচণ্ড ক্লান্তি বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতনতাই পারে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে এই তীব্র গরমের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে।




