সোমবার, মে ১১, ২০২৬

মাঝরাতে পায়ে টান ধরে ঘুম ভাঙে? জেনে নিন কারণ ও তাৎক্ষণিক করণীয়

বহুল পঠিত

গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান বা খিল ধরা এই যন্ত্রণার সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। তখন পা সোজা করা তো দূরের কথা, নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ মনে করেন শুধু পানি কম খেলেই এমন হয়, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এর পেছনে রয়েছে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

আপনার যদি নিয়মিত এমন সমস্যা হয়ে থাকে, তবে আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

কেন পেশিতে টান ধরে প্রধান কারণসমূহ

পেশিতে টান ধরা বা ‘লেগ ক্র্যাম্প’ মূলত পেশির অনৈচ্ছিক সংকোচন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু শারীরিক কারণ কাজ করে:

  • শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ। শরীরে পানির অভাব হলে পেশির কোষগুলো সংকুচিত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।
  • খনিজের ভারসাম্যহীনতা: রক্তে ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি দেখা দিলে পেশির সঙ্কোচন ও প্রসারণ ব্যাহত হয়।
  • অতিরিক্ত পরিশ্রম: যারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন কিংবা অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করেন, তাদের পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়লে রাতে ঘুমের মধ্যে টান ধরতে পারে।
  • রক্ত চলাচলে বাধা: ঘুমের সময় শরীরের নিচের অংশে রক্ত চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে যায়। ফলে পেশিগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না, যা টানের সৃষ্টি করে।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

কিছু নির্দিষ্ট মানুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি বেশি দেখা দিতে পারে:

  1. গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের বাড়তি ওজনের কারণে পায়ে চাপ পড়ে, ফলে পেশিতে টান ধরা খুবই সাধারণ।
  2. বয়স্ক ব্যক্তি: বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং খনিজের শোষণ ক্ষমতা কমে আসে।
  3. ভিটামিন ডি-এর অভাব: যাদের শরীরে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে, তারা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন।

মাঝরাতে হঠাৎ টান ধরলে তাৎক্ষণিক যা করবেন

ঘুমানোর সময় বা হঠাৎ টান ধরলে ঘাবড়ে না গিয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

১. হালকা মালিশ ও স্ট্রেচিং

আক্রান্ত স্থানে খুব আলতোভাবে মালিশ করুন। পা একদম সোজা রাখার চেষ্টা করুন এবং পায়ের পাতা বা আঙুলগুলো নিজের শরীরের দিকে টেনে ধরুন। এতে পেশি দ্রুত শিথিল হবে।

২. বরফ সেঁক (আইস প্যাক)

পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা হলে সেখানে আইস প্যাক বা বরফ ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়। বরফ না থাকলে ঠান্ডা পানির ধারায় পা রাখতে পারেন।

৩. গরম সেঁক (যদি ব্যথা স্থায়ী হয়)

যদি অনেকক্ষণ পর্যন্ত চিনচিনে ব্যথা থাকে, তবে কুসুম গরম পানির সেঁক দিলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং পেশির জড়তা কাটবে।

প্রতিকারের দীর্ঘমেয়াদী উপায়

যাদের নিয়মিত এই সমস্যা হয়, তাদের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি:

  • পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান নিশ্চিত করুন যাতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে।
  • সুষম খাদ্য: ডায়েটে কলা (পটাশিয়াম), দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার (ক্যালশিয়াম) এবং সবুজ শাকসবজি রাখুন।
  • ব্যায়াম: রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি সমস্যাটি তীব্র হয়, তবে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে ভিটামিন ডি বা ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা দেখে নিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।

পায়ে টান ধরাকে অবহেলা করবেন না। এটি যেমন সাধারণ পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে, তেমনি বড় কোনো খনিজের ঘাটতির সংকেতও হতে পারে। সুস্থ থাকতে আজই আপনার জীবনযাত্রায় সঠিক খাদ্য ও পর্যাপ্ত পানির ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

আরো পড়ুন

বৃষ্টির দিনে কাপড় দ্রুত শুকানোর উপায়: ভ্যাপসা দুর্গন্ধ থেকে মুক্তির সহজ কৌশল

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন যেমন স্থবির হয়ে পড়ে, তেমনি গৃহিণীদের কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় কাপড় শুকানো। রোদ না থাকায় এবং বাতাসে...

মুখে দুর্গন্ধ দূর করার ৮টি সহজ ও কার্যকর উপায়

আমাদের অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা হলো মুখে দুর্গন্ধ হওয়া। অনেক সময় বন্ধুদের আড্ডায় বা অফিসের মিটিংয়ে কথা বলতে গেলে এই সমস্যার কারণে চরম বিব্রতকর...

গরমে ঠান্ডা পানি পান করা কি ক্ষতিকর? পুষ্টিবিদের পরামর্শ জেনে নিন

বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ঘাম এবং তৃষ্ণা। এই গরমে শরীরকে সতেজ রাখতে আমরা অনেকেই ফ্রিজের বরফ ঠান্ডা পানির...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ