Thursday, June 25, 2026

শরীরের যে অংশে ব্যথা হলে বুঝবেন আপনি কিডনি সমস্যায় ভুগছেন

বহুল পঠিত

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত পানি পান না করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিডনি রোগের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, শুরুর দিকে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তবে সচেতন থাকলে শরীরের কিছু ছোট পরিবর্তন দেখে আপনি সহজেই বড় বিপদ এড়াতে পারেন।

কিডনি আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ করে রক্ত পরিষ্কার রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যখনই এই অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শরীর কিছু সংকেত পাঠাতে শুরু করে।

কিডনির ব্যথা ঠিক কোথায় অনুভূত হয়

কিডনির ব্যথা এবং সাধারণ কোমর ব্যথার মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা সাধারণত শরীরের নিচের এই অংশগুলোতে দেখা দেয়:

  • পাঞ্জরের নিচে ও পিঠের পেছনে: পিঠের মাঝ বরাবর নিচের দিকে, পাঁজরের ঠিক নিচেই কিডনির অবস্থান। সমস্যা হলে মূলত এই অংশে গভীর ব্যথা অনুভূত হয়।
  • কোমরের দুই পাশে: কোমরের দুই পাশের যেকোনো এক দিকে বা উভয় পাশে চিনচিনে ব্যথা হতে পারে।
  • ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: কিডনির ব্যথা অনেক সময় এক জায়গায় স্থির থাকে না। এটি তলপেট, কুঁচকি কিংবা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

ব্যথার ধরন দেখে সমস্যা চেনার উপায়

ব্যথার ধরন বলে দিতে পারে আপনার সমস্যাটি ঠিক কী ধরনের:

  • তীব্র ব্যথা: যদি হঠাৎ করে খুব তীব্র এবং কামড়ানো ব্যথা শুরু হয়, তবে এটি কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
  • ধীরে ধীরে বাড়া ব্যথা: যদি ব্যথাটা হালকা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তবে তা কিডনিতে সংক্রমণের (Infection) ইঙ্গিত দেয়।

কিডনি সমস্যার আরও কিছু সাধারণ লক্ষণ

শুধুমাত্র ব্যথাই নয়, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরে আরও অনেক লক্ষণ প্রকাশ পায়:

  • ফোলাভাব: পা, গোড়ালি কিংবা চোখের নিচের অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া।
  • প্রস্রাবে পরিবর্তন: প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া কিংবা বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া। এছাড়া প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বা দুর্গন্ধ থাকা।
  • সারাক্ষণ ক্লান্তি: শরীর থেকে বর্জ্য বের হতে না পারায় সারাক্ষণ দুর্বল বা অবসাদগ্রস্ত লাগা।
  • ত্বকের সমস্যা: ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ তীব্র চুলকানি শুরু হওয়া।
  • বমি ভাব: খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া এবং প্রায়ই বমি বমি ভাব হওয়া।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন

সাধারণত কোমর ব্যথা বিশ্রামে কমলেও কিডনির ব্যথা সহজে কমে না। নিচের পরিস্থিতিগুলোতে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

১. যদি ব্যথা ১ থেকে ২ দিনের বেশি স্থায়ী হয়।

২. প্রস্রাবের রঙ লালচে বা ঘোলাটে হলে কিংবা প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে।

৩. ব্যথার সাথে যদি জ্বর বা কাঁপুনি অনুভূত হয়।

৪. প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া করলে।


কিডনি ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং বছরে অন্তত একবার কিডনি চেকআপ করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, রোগটি শনাক্ত করতে যত দেরি হবে, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত কমে আসবে। তাই শরীরে ছোটখাটো যেকোনো পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন এবং সুস্থ জীবনযাপন করুন।

আরো পড়ুন

হাম না চিকেন পক্স, বুঝবেন যেভাবে: লক্ষণ ও চেনার সহজ উপায়

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। ভাইরাসজনিত এসব রোগের শুরুর দিকের উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম...

১০ জেলায় আইসিইউ চালু: জেলা সদর হাসপাতালেই এখন মিলবে জরুরি ও উন্নত চিকিৎসাসেবা

আমাদের দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট ছিল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ (ICU)। যেকোনো জরুরি বা জটিল রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষু...

বালিশের নিচে রসুন রাখার উপকারিতা: রাতে ঘুমানোর আগে কেন রাখবেন ১ কোয়া রসুন?

রসুন আমাদের সবার রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত একটি উপাদান। তরকারির স্বাদ বাড়ানো থেকে শুরু করে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। রসুনকে শুধু একটি...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ