সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়ন কার্যক্রমে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের আবেদনের সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীরা আগামী ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে বা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক প্রতিকূল পরিবেশ ও অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তাই সকল যোগ্য প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৫ জুলাই) সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ্ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।
চূড়ান্ত মেধা তালিকা ও ফলাফল প্রকাশের নতুন তারিখ
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন করে জমা দেওয়া আবেদন এবং পূর্বে জমা হওয়া সমস্ত আবেদনপত্র খুব দ্রুত যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করা হবে।
আবেদন মূল্যায়ন ও পরীক্ষা শেষে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, সেখানে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তা অব্যাহত রাখা যাবে।
স্থানীয় কমিটির জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা
জরুরি এই নির্দেশনায় নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে স্থানীয় কমিটির জন্য বেশ কিছু নমনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
- পরীক্ষা স্থগিত বা এক সাথে নেওয়ার সুযোগ: স্থানীয় কমিটি চাইলে চলমান পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নতুন ও পুরোনো সব আবেদনকারীর জন্য একসঙ্গে পরে পরীক্ষা আয়োজন করা যাবে।
- স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা: ২৫ ও ২৬ জুলাই নির্ধারিত পরীক্ষার বিষয়ে স্থানীয় সার্বিক পরিবেশ বিবেচনা করে পরীক্ষা চালু রাখা বা স্থগিত রাখার পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
- পৃথক পরীক্ষার ব্যবস্থা: যদি কোনো এলাকায় নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়া হয়, তবে পরবর্তীতে নতুন আবেদনকারীদের জন্য পুনরায় পৃথকভাবে পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে।
নিয়োগের মানবণ্টন: নেওয়া যাবে না কোনো লিখিত পরীক্ষা!
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় তথ্য হলো এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে প্রার্থীদের মূল্যায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট মানবণ্টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে মূলত:
১. শিক্ষাগত যোগ্যতার জিপিএ (GPA): প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফলের ওপর নির্দিষ্ট নম্বর থাকবে।
২. ব্যবহারিক পরীক্ষা: পদের কাজ সম্পর্কিত ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাই।
৩. মৌখিক পরীক্ষা (Viva): সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মূল্যায়ন।
এই তিনটি বিষয়ের অর্জিত নম্বরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মেধা তালিকা ও ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।
প্রশিক্ষণ ও পরবর্তী করণীয়
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ৩০ জুলাই প্রকাশের পর তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য পরবর্তী কর্মপরিকল্পনার সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করে জানিয়ে দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কার্যক্রম যেন কোনো রকম বাধা ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি, সদস্য-সচিব এবং সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে যারা এতদিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে আবেদন করতে পারেননি বা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের জন্য আবেদনের এই বর্ধিত সময়সীমা একটি দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। তাই দেরি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করুন এবং অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মাবলী অনুসরণ করুন।




