দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটিয়ে আবারও ঘরের মাঠে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরতে মরিয়া হয়ে আছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আসন্ন ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত সাফের অফিশিয়াল ড্র।
ড্রয়ের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, স্বাগতিক বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে স্থান পেয়েছে। এই গ্রুপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সাথে লড়াই করবে শ্রীলঙ্কা এবং ভুটান। অন্যদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সাথে ‘বি’ গ্রুপে স্থান পেয়েছে মালদ্বীপ এবং পাকিস্তান।
থিম্পুতে জমকালো সাফের ড্র আয়োজন
শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (SAFF) তত্ত্বাবধানে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ড্র অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ফুটবল ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাফের দীর্ঘদিনের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, যিনি ড্রয়ের দিনেই আয়োজিত নির্বাহী সভায় টানা আরেক মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাফের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
দুই গ্রুপের পূর্ণাঙ্গ দলীয় তালিকা
ড্র শেষে সাফের ১৫তম আসরের দুটি গ্রুপের রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
১. ‘এ’ গ্রুপ (Group A)
- বাংলাদেশ (স্বাগতিক)
- শ্রীলঙ্কা
- ভুটান
২. ‘বি’ গ্রুপ (Group B)
- ভারত (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন)
- মালদ্বীপ
- পাকিস্তান
নেপাল ও ফিফার নিষেধাজ্ঞা সমীকরণ
সাফভুক্ত দেশের সংখ্যা মোট ৭টি হলেও থিম্পুর এই ড্র অনুষ্ঠানে মাত্র ৬টি দেশকে নিয়ে পটিং করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) নিষেধাজ্ঞার খপ্পরে পড়ায় সাফের অন্যতম পরাশক্তি নেপালকে ড্রয়ের সরাসরি তালিকায় রাখা সম্ভব হয়নি।
তবে সাফের সাধারণ সম্পাদক ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি নেপাল তাদের ওপর আরোপিত ফিফার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সক্ষম হয়, তবে তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে স্বাগতিক বাংলাদেশকে নিজেদের দর্শকদের সামনে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে নেপালকে স্বাগতিকদের ‘এ’ গ্রুপেই যুক্ত করা হতে পারে। অবশ্য এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সাফের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।
ঘরের মাঠে ২৩ বছরের খরা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ
বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য এই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি এক গৌরব পুনরুদ্ধারের যুদ্ধ। বাংলাদেশ দল সর্বশেষ ২০০৩ সালে ঢাকার মাটিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মালদ্বীপকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক সাফের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল। এরপরের দুটি দশকে বাংলাদেশ একাধিকবার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে উঠলেও ট্রফির মুখ দেখতে পারেনি।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও সেই ঢাকার মাঠে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই সর্ববৃহৎ আসর। চেনা দর্শক, চেনা আবহাওয়া এবং চেনা মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ট্রফি নিজেদের ঘরে রাখার দারুণ সুযোগ পাচ্ছে জামাল ভূঁইয়া-হামজা চৌধুরীদের দল।
সহজ গ্রুপে পড়ার কারণে বাংলাদেশের নকআউট বা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। তবে ফুটবলে ছোট বা বড় বলে কিছু নেই, তাই ভুটান ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও শতভাগ সতর্ক থেকে জয় ছিনিয়ে আনাই হবে স্বাগতিকদের প্রধান লক্ষ্য।




