সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আদর্শ সমাজ গঠনে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ইমাম তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আগামী ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এই কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইমামরা সমাজের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন। তারা যদি প্রশিক্ষিত ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করেন, তবে প্রতিটি সমাজই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে। বিশুদ্ধ ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক নানা বিষয়ে জ্ঞান রাখা বর্তমানে প্রত্যেক ইমামের জন্য অপরিহার্য।
কী কী শেখানো হবে এই প্রশিক্ষণে?
এবারের প্রশিক্ষণে প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ও সমকালীন বিষয়ে পাঠদান করা হবে। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- লিডারশিপ ও পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট: নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ।
- পাবলিক স্পিকিং ও কমিউনিকেশন: কার্যকর যোগাযোগ ও সুন্দরভাবে কথা বলা।
- মডার্ন টুলস ও ফ্যাক্ট-চেকিং: দাওয়াতের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই।
- চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: সংশয়বাদ ও নাস্তিক্যবাদ মোকাবিলা এবং বিজ্ঞান ও ইসলামের কথিত সংঘাত নিরসন।
- টাইম ম্যানেজমেন্ট: সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করার কৌশল।
আবেদনের যোগ্যতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ
আবেদনকারীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১০০ জন ইমাম এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি:
১. বর্তমানে কর্মরত ইমাম বা খতিব হতে হবে।
২. শিক্ষাগত যোগ্যতা: দাওরায়ে হাদিস বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কমপক্ষে ৬৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা
নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আবাসন ও খাবারের সুব্যবস্থা থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে সফলদের সনদপত্র প্রদান করা হবে এবং যাতায়াত খরচও বহন করবে ফাউন্ডেশন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি দাওয়াতি ও সেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগও থাকছে।
আবেদনের সময় ও নিয়ম
আগ্রহী ইমামদের আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে গুগল ফরমের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করা হবে।
ইমামদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যারা সমাজের মানুষের কাছে সঠিক ইসলাম পৌঁছে দিতে চান এবং নিজেকে আরও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ।




