শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও কার্যাবলী

বহুল পঠিত

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি কার্যক্রম শুরু করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ঢাকা শাখা থেকে এর যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ১৯৭২ এর মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়। প্রথম গভর্নর ছিলেন এ.এন.এম. হামিদুল্লাহ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়াও এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাঠামো ও কার্যাবলী সংস্কার করা হয়েছে। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এটি নিয়মিত উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। বর্তমানে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

সাংগঠনিক কাঠামো ও পরিচালনা ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ পরিচালনায় আছেন গভর্নর। একজন গভর্নর ও চারজন ডেপুটি গভর্নর রয়েছেন। তারা বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে যা নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে। এই পর্ষদে গভর্নর থাকেন চেয়ারম্যান হিসেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ৩৩টি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলো ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এই শাখাগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে হয়। এখানে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

মুদ্রানীতি পরিচালনা

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রানীতি নির্ধারণ ও পরিচালনা করে। মুদ্রানীতি কমিটি এই কাজে সহায়তা করে। প্রতি তিন মাসে একবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। এই নীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মুদ্রানীতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হয়। এছাড়াও রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ওপেন মার্কেট অপারেশন পরিচালনা করে মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করে। সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হয়। মুদ্রানীতি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন আর্থিক সূচক পর্যবেক্ষণ করে। এই সূচকগুলোর উপর ভিত্তি করে নীতি সমন্বয় করা হয়। মুদ্রানীতির লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও নোট প্রচলন

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের একমাত্র মুদ্রা প্রচলনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি নোট ও মুদ্রা ছাপানোর দায়িত্বে নিয়োজিত। বাংলাদেশের সব নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাক্ষর থাকে। গভর্নর নোটে স্বাক্ষর করেন। নতুন নোট প্রচলনের আগে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নোটের নকশা নিয়মিত পরিবর্তন করা হয় জালিয়াতি রোধ করার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট সংগ্রহ করে। এই নোটগুলো ধ্বংস করে নতুন নোট ছাপানো হয়। বিশেষ স্মারক নোটও প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নোটগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা বা ব্যক্তিত্বের স্মরণে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রার মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষণাবেক্ষণ করে। বৈদেশিক মুদ্রার হার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখে। এটি একটি বাস্তবমুখী বিনিময় হার নীতি অনুসরণ করে। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে এই প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য লাইসেন্স প্রদান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও এটি রপ্তানি ও আমদানি লেনদেনের নীতিমালা নির্ধারণ করে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য। এই রিজার্ভ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে সম্পর্ক রেখে কাজ করে।

ব্যাংকিং খাত পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংকের তদারকি করে। এটি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ব্যাংককে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের হার নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও এটি ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। ব্যাংকগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও বাতিল করার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। ব্যাংকগুলোর শাখা সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয় এই প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে এই প্রতিষ্ঠান।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উদ্যোগ

বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে। এটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার চেষ্টা করে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করে এই প্রতিষ্ঠান। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষকদের জন্য কৃষি ঋণ বিতরণের নীতিমালা নির্ধারণ করে এটি। ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয় কৃষি ঋণ বিতরণের জন্য। পল্লী এলাকায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উদ্যোগ দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করে। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং রূপান্তর

বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি নগদ অর্থহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। মোবাইল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দেয়। এছাড়াও এটি মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে। ই-পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনার জন্য নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি কিউআর কোড ভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণে উৎসাহ দেয়। ডিজিটাল মুদ্রা পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। এর ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সেবা পেতে পারেন। ডিজিটাল ব্যাংকিং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

অর্থনৈতিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনৈতিক গবেষণা পরিচালনা করে। এটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে নিয়মিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। এই গবেষণা নীতিনির্ধারণে সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ এই কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত। এটি বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক পর্যবেক্ষণ করে। এছাড়াও এটি অর্থনৈতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত স্টাফ পেপার প্রকাশ করে। এই পেপারগুলোতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয়ে গবেষণা প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন অর্থনৈতিক গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই প্রতিবেদনগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক রাখে। এটি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সাথে যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনা করে। এই গবেষণাগুলো নীতিনির্ধারণে সাহায্য করে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এর। এছাড়াও এটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সাথে কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ করে। এটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। এই সম্পর্কের মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তিগুলো আর্থিক খাতের উন্নয়নে সহায়তা করে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করে। এটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।

টেকসই ব্যাংকিং পদ্ধতি

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং উৎসাহিত করে। সবুজ ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এই প্রতিষ্ঠান। এই নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে ঋণ দিতে উৎসাহিত করে। এছাড়াও এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করে। ব্যাংকগুলোকে জলবায়ু তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে কাজ করে। এটি ব্যাংকগুলোকে সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এটি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ব্যাংকিং খাতকে টেকসই করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সাম্প্রতিক সংস্কার ও উদ্ভাবন

বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এটি আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করছে। নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালা ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে। এছাড়াও এটি কর্পোরেট শাসন নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ফিনটেক সেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে। এটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করে। ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ব্যাংকিং খাতের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। এটি অনিয়ম দেখতে পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই সংস্কারগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা

বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ২০৪১ সালের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এটি নগদ অর্থহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে। এটি সব নাগরিককে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার চেষ্টা করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এটি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক টেকসই ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করবে। এটি পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং উৎসাহিত করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: বাংলাদেশ ব্যাংক কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি কার্যক্রম শুরু করে।

প্রশ্ন ২: বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল কাজ কী?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল কাজ হলো দেশের মুদ্রানীতি পরিচালনা করা। এছাড়াও এটি মুদ্রা প্রচলন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং খাত তদারকি করে।

প্রশ্ন ৩: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে নিয়োগ দেন?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেন বাংলাদেশ সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি গভর্নর নিয়োগ দেন।

প্রশ্ন ৪: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সুদের হার ও রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট নির্ধারণ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রশ্ন ৫: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে ডিজিটাল ব্যাংকিং উৎসাহিত করে?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দেয়। এছাড়াও এটি ই-পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনার জন্য নীতিমালা তৈরি করেছে।

প্রশ্ন ৬: বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উদ্যোগ কী?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার চেষ্টা করে। এটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।

প্রশ্ন ৭: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে ব্যাংকিং খাত তদারকি করে?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। এটি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে এবং নিয়মিত প্রতিবেদন জমা নেয়।

প্রশ্ন ৮: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে টেকসই ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করেছে?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক সবুজ ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এটি ব্যাংকগুলোকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে ঋণ দিতে উৎসাহিত করে।

প্রশ্ন ৯: বাংলাদেশ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক ২০৪১ সালের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। এটি ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে।

প্রশ্ন ১০: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করে?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষণাবেক্ষণ করে। এটি বৈদেশিক মুদ্রার হার নির্ধারণ করে এবং ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য লাইসেন্স প্রদান করে।

প্রশ্ন ১১: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো কেমন?

উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ পরিচালনায় আছেন গভর্নর। একজন গভর্নর ও চারজন ডেপুটি গভর্নর রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ৩৩টি বিভাগ রয়েছে।

আরো পড়ুন

রেমিট্যান্স: প্রবাসীদের শ্রমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের সংজ্ঞা ও পরিচয় বৈদেশিক কর্মস্থল থেকে দেশে পাঠানো অর্থই মূলত রেমিট্যান্স বলে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে কাজ করা মানুষের উপার্জন যখন নিজ দেশে...

গভীর সমুদ্রে গবেষণায় জোর প্রধান উপদেষ্টার: মিলল ৬৫ নতুন প্রজাতির সন্ধান, টুনা মাছের বিপুল সম্ভাবনা

বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রে গবেষণা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত একটি বিশেষ জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২৫: নতুন নিয়মে সহজ হলো ব্যবসা

বিধিমালা প্রণয়নের পটভূমি ও ঘোষণা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সম্প্রতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়েছে। এর...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ