প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হলেন দুই বাংলাদেশি তরুণ গবেষক সাইদুল আলম চৌধুরী এবং ইউশা আরাফ। ‘ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার’ বা তারবিহীন বিদ্যুৎ স্থানান্তর গবেষণায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে তারা শুরু করেছেন তাদের বাণিজ্যিক যাত্রা। ‘রিজোলিংক’ (Resolink) নামক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন।
রিজোলিংকের নেপথ্যে দুই মেধাবী
অকল্যান্ডে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল এই প্রতিষ্ঠানটি।
- ড. সাইদুল আলম চৌধুরী: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা এই গবেষক বর্তমানে ‘স্মার্ট পাওয়ার বক্স’ নামক ওয়্যারলেস চার্জিং ডিভাইস নিয়ে কাজ করছেন।
- ইউশা আরাফ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট) থেকে জেনেটিক্সে স্নাতক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই গবেষক বর্তমানে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিকেল সায়েন্সে পিএইচডি করছেন।
রিজোলিংকের লক্ষ্য ও কাজের পরিধি
সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ জানান, রিজোলিংকের মূল লক্ষ্য কেবল বাণিজ্যিক পণ্য তৈরি নয়, বরং তারবিহীন পাওয়ার সাপ্লাই বা বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তিতে শিল্প পর্যায়ের টেকসই সমাধান তৈরি করা। তিনি বলেন, “আমরা মূলত ইলেকট্রনিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোর জন্য গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করছি, যা তাদের পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।”
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফোকাস হলো উন্নত আরএন্ডডি (R&D) এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন। এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম কোনো ওয়্যারলেস পাওয়ার কোম্পানি।
বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিদেশে অবস্থান করলেও এই দুই গবেষকের হৃদয়ে সবসময় রয়েছে বাংলাদেশ। দেশে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেন তারা। ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশে আইওটি (IoT) ডিভাইস, স্মার্ট হাসপাতাল ও স্মার্ট হোম কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখেন এই দুই গবেষক।
কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ
ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ক্যাবল বা তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি দেবে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের। ওয়াইফাই সিস্টেমের মতো তারহীন চার্জিং সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে স্মার্ট হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ব্যবহার হবে আরও সহজ ও আধুনিক।
বাংলাদেশি এই গবেষকদের এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদের সক্ষমতার এক অনন্য উদাহরণ। তাদের এই পথচলা দেশীয় প্রযুক্তি খাতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




