বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এই নীতিমালা অনুসারে নষ্ট হওয়া নোটের বিনিময় মূল্য ফেরত দেওয়া হবে। গ্রাহকরা এখন থেকে ব্যাংক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত নোটের মূল্য পাবেন। কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি থাকলে পূর্ণ মূল্য দেওয়া হবে। ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে আগের ‘নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’ বাতিল হয়েছে। দুই খণ্ডে বিচ্ছিন্ন নোটের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ব্যাংকগুলোকে এই সেবা দিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনীহা দেখালে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নীতিমালার প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে যা ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই নীতিমালা অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য গ্রাহকদের ফেরত দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই নীতিমালার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫ বিধিমালা’ কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আগের ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’ বাতিল করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা গ্রাহকদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত নোটের মূল্য ফেরত পেতে পারেন।
নোটের মূল্য নির্ধারণের নতুন নিয়ম
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি বিদ্যমান থাকলে ঐ নোটের বিপরীতে গ্রাহক মূল্যমানের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। এর আগে ছেঁড়া ও পোড়া নোট বদলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এখন তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। নোটের কত অংশ থাকলে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা এবারের বিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অনুসারে, কোনো নোট দুই খণ্ডে খণ্ডিত হলে খণ্ড দুইটি সন্দেহাতীত ভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। এক্ষেত্রে, জমাগ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দুইটির উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ জোড়া লাগাতে হবে, যাতে আসল নোট হিসেবে শনাক্তকরণের জন্য নোটটির পরীক্ষা করতে অসুবিধা না হয়।
ব্যাংকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া নোট বদল করা যাবে। তবে সব নোটের পুরো মূল্য পাওয়া যাবে না। কেবল কোনো ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু নোটের ৯০ শতাংশের বেশি রয়েছে, এমন নোটের বিনিময় মূল্য পুরোটাই পাওয়া যাবে। এসব ক্ষেত্রে নোট তাৎক্ষণিক ভাবে বদল করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্য সব ছেঁড়াফাটা নোটও তাৎক্ষণিকভাবে বদল করে দেওয়া হয়। ব্যাংকগুলোকে এই সেবা প্রদানে অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গ্রাহকের অধিকার ও সুবিধা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছে। এখন থেকে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংক থেকে ফেরত পাবেন। নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ থাকলে পূর্ণ মূল্য পাওয়া যাবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো থেকে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহক আবেদন করতে পারবেন। গ্রাহকের আবেদন ব্যাংক নিষ্পত্তি করতে না পারলে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে। এই প্রক্রিয়া গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে।
ক্ষতিগ্রস্ত নোট শনাক্তকরণ পদ্ধতি
ক্ষতিগ্রস্ত নোট শনাক্তকরণের জন্য নতুন নীতিমালায় বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো নোট দুই খণ্ডে খণ্ডিত হলে খণ্ড দুইটি সন্দেহাতীত ভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। এক্ষেত্রে, জমাগ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দুইটির উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ জোড়া লাগাতে হবে, যাতে আসল নোট হিসেবে শনাক্তকরণের জন্য নোটটির পরীক্ষা করতে অসুবিধা না হয়। দুই খণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়নি, কিন্তু পরীক্ষার সময় নাড়াচাড়ায় বিচ্ছিন্ন হতে পারে-এমন জীর্ণ নোটেরও উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ লাগাতে হবে, যাতে নোটটি শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষণে অসুবিধা না হয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্ষতিগ্রস্ত নোট শনাক্ত করা সহজ হবে।
অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া
ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো থেকে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহক আবেদন করতে পারবেন। গ্রাহকের আবেদন ব্যাংক নিষ্পত্তি করতে না পারলে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদনপত্র প্রাপ্তির আট সপ্তাহের মধ্যে নোটটির মূল্য প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে এবং মূল্য প্রদানযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবে মূল্য আকলন করা হবে। এই প্রক্রিয়া গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে।
নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫ এর বৈশিষ্ট্য
‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫ বিধিমালা’ সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’ বাতিল করা হয়েছে। নতুন প্রবিধানে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নোটের কত অংশ থাকলে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা এবারের বিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি বিদ্যমান থাকলে ঐ নোটের বিপরীতে গ্রাহক মূল্যমানের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত নোট শনাক্তকরণের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই প্রবিধান গ্রাহকদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত নোটের মূল্য ফেরত পেতে পারেন।
ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সুষ্ঠু নগদ লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা/ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান ও দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এটি ব্যাংকগুলোকে নীতিমালা মেনে চলতে বাধ্য করবে এবং গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করবে। এই নিয়ম অনুসরণ না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নষ্ট নোট বদলের প্রক্রিয়া
নানা কারণে প্রচলিত নোট ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হওয়া কিংবা পুড়ে যাওয়া নোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা অফিসসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বদল করে নেওয়া যায়। প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া নোট বদল করা যায়। তবে সব নোটের পুরো মূল্য পাওয়া যায় না। কেবল কোনো ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু নোটের ৯০ শতাংশের বেশি রয়েছে, এমন নোটের বিনিময় মূল্য পুরোটাই পাওয়া যাবে। এসব ক্ষেত্রে নোট তাৎক্ষণিক ভাবে বদল করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্য সব ছেঁড়াফাটা নোটও তাৎক্ষণিকভাবে বদল করে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রাহকরা সহজেই নষ্ট নোট বদলে নতুন নোট পেতে পারেন।
নতুন নীতিমালার সুফল
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালার ফলে গ্রাহকরা এখন আরও সহজে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলে পূর্ণ মূল্য পাবেন। এই নীতিমালা অনুযায়ী নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ থাকলে পূর্ণ মূল্য দেওয়া হবে। এর আগে ছেঁড়া ও পোড়া নোট বদলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এখন তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। নোটের কত অংশ থাকলে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা এবারের বিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো থেকে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহক আবেদন করতে পারবেন। এই নীতিমালা গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত নোট শনাক্তকরণ এবং মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। কোনো নোট দুই খণ্ডে খণ্ডিত হলে খণ্ড দুইটি সন্দেহাতীত ভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। এক্ষেত্রে, জমাগ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দুইটির উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ জোড়া লাগাতে হবে, যাতে আসল নোট হিসেবে শনাক্তকরণের জন্য নোটটির পরীক্ষা করতে অসুবিধা না হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তারা নতুন নীতিমালা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন এবং গ্রাহকদের সেবা দিতে সক্ষম হবেন।
নগদ লেনদেনের উন্নয়ন
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা নগদ লেনদেনের উন্নয়নে সহায়তা করবে। সুষ্ঠু নগদ লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা/ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান ও দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নীতিমালা অনুসারে গ্রাহকরা এখন সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য পাবেন। এর ফলে নগদ লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫ বিধিমালা’ কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’ বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নোট শনাক্তকরণ এবং মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে এবং নগদ লেনদেনের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কবে নতুন নীতিমালা জারি করেছে?
উত্তর: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এই নীতিমালা অনুসারে নষ্ট হওয়া নোটের বিনিময় মূল্য ফেরত দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রশ্ন ২: নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কত অংশের নোট থাকলে পূর্ণ মূল্য পাওয়া যাবে?
উত্তর: নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি বিদ্যমান থাকলে ঐ নোটের বিপরীতে গ্রাহক মূল্যমানের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। এর আগে ছেঁড়া ও পোড়া নোট বদলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এখন তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: নতুন কোন প্রবিধান কার্যকর করা হয়েছে?
উত্তর: এই সার্কুলারের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫ বিধিমালা’ কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’ বাতিল করা হয়েছে। নতুন প্রবিধানে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: দুই খণ্ডে বিচ্ছিন্ন নোটের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য?
উত্তর: কোনো নোট দুই খণ্ডে খণ্ডিত হলে খণ্ড দুইটি সন্দেহাতীত ভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। এক্ষেত্রে, জমাগ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দুইটির উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ জোড়া লাগাতে হবে, যাতে আসল নোট হিসেবে শনাক্তকরণের জন্য নোটটির পরীক্ষা করতে অসুবিধা না হয়।
প্রশ্ন ৫: ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো থেকে সমস্যা হলে কী করতে হবে?
উত্তর: ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো থেকে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহক আবেদন করতে পারবেন। গ্রাহকের আবেদন ব্যাংক নিষ্পত্তি করতে না পারলে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে।
প্রশ্ন ৬: কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবেদনপত্র প্রাপ্তির কত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে?
উত্তর: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদনপত্র প্রাপ্তির আট সপ্তাহের মধ্যে নোটটির মূল্য প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে এবং মূল্য প্রদানযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবে মূল্য আকলন করা হবে। এই প্রক্রিয়া গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে।
প্রশ্ন ৭: ব্যাংক শাখা ছেঁড়া নোট বদলে অনীহা দেখালে কী হবে?
উত্তর: সুষ্ঠু নগদ লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা/ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান ও দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রশ্ন ৮: কোথায় ছেঁড়া নোট বদল করা যাবে?
উত্তর: নানা কারণে প্রচলিত নোট ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হওয়া কিংবা পুড়ে যাওয়া নোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা অফিসসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বদল করে নেওয়া যায়। প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া নোট বদল করা যায়। তবে সব নোটের পুরো মূল্য পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন ৯: নতুন নীতিমালার ফলে গ্রাহকরা কী সুবিধা পাবেন?
উত্তর: নতুন নীতিমালার ফলে গ্রাহকরা এখন আরও সহজে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলে পূর্ণ মূল্য পাবেন। এই নীতিমালা অনুযায়ী নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ থাকলে পূর্ণ মূল্য দেওয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো থেকে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহক আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন ১০: জীর্ণ নোটের ক্ষেত্রে কী করতে হবে?
উত্তর: দুই খণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়নি, কিন্তু পরীক্ষার সময় নাড়াচাড়ায় বিচ্ছিন্ন হতে পারে-এমন জীর্ণ নোটেরও উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ লাগাতে হবে, যাতে নোটটি শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষণে অসুবিধা না হয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্ষতিগ্রস্ত নোট শনাক্ত করা সহজ হবে।
প্রশ্ন ১১: নতুন নীতিমালা অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?
উত্তর: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা নগদ লেনদেনের উন্নয়নে সহায়তা করবে। সুষ্ঠু নগদ লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা/ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান ও দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হবে। এর ফলে নগদ লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।