আকাশে ওড়ার এবং পাখির চোখে পুরো পৃথিবীকে দেখার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। প্রযুক্তির কল্যাণে সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে গুগল (Google) সবসময়ই নতুন কিছু নিয়ে আসে। আগে গুগলের এই চমৎকার সুবিধাটি ব্যবহার করতে হলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ভারী সফটওয়্যার বা অ্যাপ ডাউনলোড করতে হতো। কিন্তু এবার গুগল গেমার এবং ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য নিয়ে এলো এক অবিশ্বাস্য সুখবর!
এখন থেকে কোনো প্রকার অ্যাপ ডাউনলোডের ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি আপনার হাতের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজার ব্যবহার করে আকাশে উড়ে বেড়াতে পারবেন। গুগলের নতুন এই ভার্চুয়াল ফ্লাইট সিমুলেটরটি ব্যবহার করা যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
এক নজরে গুগল ব্রাউজার ফ্লাইট সিমুলেটর
নতুন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ফিচারের নাম | গুগল ব্রাউজার ফ্লাইট সিমুলেটর (Google Browser Flight Simulator) |
| মূল্য | সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (Free) |
| ডিভাইস সাপোর্ট | মোবাইল, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ এবং ডেক্সটপ কম্পিউটার |
| মাধ্যম | সরাসরি যেকোনো ব্রাউজার (যেমন: Chrome, Safari, Edge) |
| দৃশ্যপট (Graphics) | রিয়েল-টাইম থ্রিডি (3D) বিল্ডিং ও স্যাটেলাইট ভিউ |
| প্রধান সুবিধা | কোনো এক্সটার্নাল অ্যাপ বা সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হয় না |
কোনো অ্যাপের ঝামেলা নেই, শুধুই ব্রাউজার!
আগে যারা গুগলের আর্থে (Google Earth) ফ্লাইট সিমুলেটর ব্যবহার করেছেন, তারা জানেন যে এর জন্য আলাদা একটি ভারী সফটওয়্যার পিসিতে ইনস্টল করতে হতো। অনেক সময় কম কনফিগারেশনের কম্পিউটারে বা মোবাইলে সেটি ঠিকঠাক চলতো না।
গুগল এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে। এখন আপনার ফোনে বা কম্পিউটারে থাকা সাধারণ গুগল ক্রোম (Google Chrome) বা সাফারি (Safari) ব্রাউজার ওপেন করেই আপনি ককপিটে বসে যেতে পারবেন। এর জন্য আলাদা কোনো স্টোরেজ বা র্যামের (RAM) ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।
সত্যিকারের থ্রিডি (3D) বিল্ডিং ও পাইলট ভিউ
গুগলের এই নতুন সিমুলেটরটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর চমৎকার গ্রাফিক্স ও ভিউ। আপনি যখন ব্রাউজার থেকে বিমানটি ওড়াবেন, তখন আপনার স্ক্রিনে ভেসে উঠবে একদম বাস্তবসম্মত পাইলট ভিউ (Pilot View)।
বিশ্বের বড় বড় শহর, যেমন নিউ ইয়র্কের স্কাইস্ক্র্যাপার, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার কিংবা মিশরের পিরামিডের ওপর দিয়ে যখন আপনার ভার্চুয়াল বিমানটি উড়ে যাবে, তখন আপনি সত্যিকারের থ্রিডি বিল্ডিং এবং ল্যান্ডস্কেপ দেখতে পাবেন। গুগলের উন্নত স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করার কারণে ওপর থেকে নিচের দৃশ্যগুলো দেখতে একদম জীবন্ত মনে হয়।
এবার মোবাইল থেকেও উড্ডয়ন সম্ভব!
কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি গুগল এবার মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচারটি উম্মুক্ত করেছে। আপনার অ্যান্ড্রয়েড (Android) কিংবা আইফোন (iPhone)—যেকোনো স্মার্টফোনের ব্রাউজার থেকেই এটি চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মোবাইলের স্ক্রিনে থাকা টাচ কন্ট্রোল ব্যবহার করে সহজেই বিমানের গতি বাড়ানো, কমানো কিংবা দিক পরিবর্তন করা সম্ভব। ফলে ল্যাপটপ বা পিসি না থাকলেও ঘরের কোণায় শুয়ে-বসে মোবাইল দিয়েই পুরো বিশ্ব ঘুরে দেখার আনন্দ নেওয়া যাবে।
কীভাবে শুরু করবেন আপনার ভার্চুয়াল আকাশ যাত্রা?
এই চমৎকার ফ্লাইট সিমুলেটরটি চালু করা খুবই সহজ। নিচে কয়েকটি সহজ ধাপ দেওয়া হলো:
১. আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারটি ওপেন করুন।
২. গুগলের অফিশিয়াল ম্যাপ বা আর্থের নির্দিষ্ট ফ্লাইট সিমুলেটর লিংকে প্রবেশ করুন।
৩. আপনার পছন্দের বিমান (যেমন: ফাইটার জেট বা সাধারণ প্রপেলার বিমান) বেছে নিন।
৪. আপনি কোন বিমানবন্দর বা শহর থেকে ওড়া শুরু করতে চান, তা সিলেক্ট করুন।
৫. ব্যস! এবার স্ক্রিনের বা কিবোর্ডের কন্ট্রোল ব্যবহার করে টেক অফ (Take off) করুন নীল আকাশে।
প্রো-টিপ: ভালো অভিজ্ঞতার জন্য একটি স্থিতিশীল এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করুন। ইন্টারনেট স্পিড ভালো হলে থ্রিডি বিল্ডিং এবং মানচিত্রের দৃশ্যগুলো খুব দ্রুত ও স্পষ্টভাবে লোড হবে।
ভ্রমণ যাদের রক্তে কিন্তু পকেটের টানে বা সময়ের অভাবে বিশ্বভ্রমণ হয়ে উঠছে না, তাদের মনের ক্ষুধা মেটাতে গুগলের এই নতুন ব্রাউজার-ভিত্তিক ফ্লাইট সিমুলেটরটি দারুণ একটি মাধ্যম হতে পারে। তাহলে আর দেরি কেন? আজই আপনার ব্রাউজারটি খুলে পাইলটের আসনে বসে পড়ুন এবং ঘুরে আসুন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে!




