ছুটির দিনের আনন্দময় মুহূর্ত, বিশেষ ভ্রমণ কিংবা দৈনন্দিন কাজের শত শত ছবি ও ভিডিও জমতে জমতে হঠাৎ করেই দেখা যায় গুগল ড্রাইভের খালি জায়গা একদম শেষ! প্রতিটি জিমেইল অ্যাকাউন্টের সাথে গুগল আমাদের বিনামূল্যে ১৫ জিবি স্টোরেজ ব্যবহার করতে দেয়। তবে ছবি, ভারী ভিডিও, নানা কাজের ডকুমেন্ট এবং প্রতিদিনের আসা জিমেইলের ভিড়ে এই ১৫ জিবি খুব অল্প সময়েই পূর্ণ হয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ফাইল জমা রাখতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। অনেকে বাধ্য হয়ে টাকা খরচ করে গুগল ওয়ান (Google One) সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার কথা চিন্তা করেন। তবে আপনি জানেন কি, পকেটের এক টাকাও খরচ না করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কিছু কৌশল খাটিয়ে ড্রাইভের অনেকটা জায়গা ফাঁকা করা সম্ভব?
প্রযুক্তি বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট সিএনইটি (CNET)-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ থেকে কাজটি করা মোবাইলের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। কারণ বড় পর্দায় স্টোরেজ দখল করে থাকা অপ্রয়োজনীয় ফাইল খুঁজে বের করে মুছে ফেলা সুবিধাজনক।
আজকে আমরা আলোচনা করব কীভাবে টাকা খরচ না করে গুগল ড্রাইভের জায়গা খালি করবেন।
১. ড্রাইভের সবচেয়ে বড় ফাইলগুলো খুঁজে বের করে মুছে ফেলুন
গুগল ড্রাইভে আমরা অনেক ছোট ছোট ফাইল জমা রাখি। তবে সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে রাখে বিশাল আকারের ভিডিও, সফটওয়্যার বা বড় প্রেজেন্টেশন ফাইল। শত শত ছোট ফাইল কাটার চেয়ে কেবল ২-৩টি বিশাল ফাইল মুছে ফেললেই অনেক জায়গা ফাঁকা হয়ে যায়।
কম্পিউটারে যেভাবে করবেন
- গুগল ড্রাইভে প্রবেশ করে বাঁ দিকের মেনু থেকে Storage অপশনে ক্লিক করুন।
- এবার ডান পাশে থাকা Storage Used অপশনে চাপ দিন। এতে ফাইলগুলো বড় থেকে ছোট আকার অনুযায়ী সাজানো হয়ে যাবে।
- যেসব ফাইল আপনার আর দরকার নেই, সেগুলো নির্বাচন করে মুছে (Delete) দিন।
জরুরি টিপস: শুধু ফাইল ডিলেট করলেই কিন্তু সাথে সাথে ড্রাইভের জায়গা ফাঁকা হয় না! ফাইল ডিলেট করার পর বাঁ পাশের Bin বা Trash ফোল্ডারে গিয়ে Empty Trash বাটনে ক্লিক করে ফাইলগুলো স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে হবে।
মোবাইল অ্যাপে যেভাবে করবেন
গুগল ড্রাইভ অ্যাপ চালু করে নিচে থাকা Files অপশনে যান। এরপর ওপরের Storage Used নির্বাচন করে ফাইল ফিল্টার করে বড় ফাইলগুলো সরিয়ে ফেলুন।
২. জিমেইলের বিশাল অ্যাটাচমেন্ট ফাইল মুছে ফেলুন
অনেকেই জানেন না যে, আপনার জিমেইলের সমস্ত ই-মেইল এবং এর সাথে আসা ফাইলগুলো কিন্তু ওই ১৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজের অংশ থেকেই জায়গা নেয়। বিশেষ করে পুরোনো মেইলের সাথে থাকা পিডিএফ (PDF), ছবি বা ভিডিও অনেক স্টোরেজ দখল করে রাখে।
জিমেইল ফাঁকা করার ম্যাজিক ট্রিকস
জিমেইল সার্চ বারে গিয়ে একটি বিশেষ কোড লিখুন: has:attachment larger:10MB
এটি লিখে ইন্টার চাপলেই ১০ মেগাবাইটের বেশি বড় ফাইল থাকা ই-মেইলগুলো আপনার চোখের সামনে চলে আসবে। এখান থেকে অপ্রয়োজনীয় মেইলগুলো সিলেক্ট করে ডিলেট করে দিন। কাজ শেষে অবশ্যই জিমেইলের Trash ফোল্ডার খালি করতে ভুলবেন না।
৩. স্প্যাম (Spam) ফোল্ডার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন
আমাদের ই-মেইলে প্রতিদিন অসংখ্য প্রচারণামূলক বা স্প্যাম মেইল আসে। জিমেইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগুলোকে স্প্যাম ফোল্ডারে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু অনেক দিন ধরে জমতে জমতে এই ফোল্ডারটি মেগাবাইটের পর মেগাবাইট স্টোরেজ নষ্ট করে।
এটি সাফ করতে জিমেইলের বাঁ পাশের মেনু থেকে Spam ফোল্ডারে প্রবেশ করুন। ওপরের দিকে থাকা Delete all spam messages now অপশনে ক্লিক করলেই একসাথে সব ফালতু মেইল উধাও হয়ে যাবে।
৪. গুগল ফটোসের পুরোনো ছবি ও ভিডিও ব্যাকআপ সরান
গুগল ফটোস (Google Photos)-এ আমরা যেসব ছবি ও ভিডিও ব্যাকআপ নিয়ে রাখি, সেগুলোও ড্রাইভার ওই ১৫ জিবির ভেতরেই যুক্ত হয়। শত শত আবাপছায়, ঝাপসা বা একই ছবির একাধিক কপি (Duplicate Photo) অনর্থক মেমোরি নষ্ট করে।
গুগল ফটোস অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ঢুকে অপ্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও বেছে নিয়ে ডিলেট করুন। পরে ফটোসের Trash ফোল্ডারও খালি করে দিন।
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: আইফোন ব্যবহারকারীরা যদি গুগল ফটোস আইক্লাউডের (iCloud) সাথে সিঙ্ক করে রাখেন, তবে গুগল ফটোস থেকে ছবি কাটার আগে সতর্ক থাকুন। না হলে ফোনের গ্যালারি থেকেও আসল ছবি মুছে যেতে পারে!
৫. ভারী ফাইলগুলো পিসি বা পেনড্রাইভে নিয়ে নিন
যদি আপনার ড্রাইভে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বড় ভিডিও বা ডকুমেন্ট থাকে যেগুলো ডিলেট করা সম্ভব নয়, তবে সেগুলো ভিন্ন কোথাও সংরক্ষণ করুন।
- প্রথমে ওই দরকারি বড় ফাইলগুলো ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা পেনড্রাইভে ডাউনলোড করে নিন।
- ডাউনলোড সম্পন্ন হলে গুগল ড্রাইভ থেকে স্থায়ীভাবে ফাইলগুলো ডিলেট করে দিন।
এতে ফাইলগুলো আপনার কাছে সুরক্ষিতও থাকল, আবার গুগল ড্রাইভে নতুন ফাইল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রি স্পেস তৈরি হলো।
ডিজিটাল এই যুগে ফাইল গুছিয়ে রাখাও একটি দরকারি দক্ষতা। নিয়মানুযায়ী কয়েক মাস পর পর ড্রাইভের আবর্জনা ফাইল, পুরোনো মেইল এবং ডুপ্লিকেট ছবি পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুললে বিনামূল্যের ১৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ দিয়েই আপনি বছরের পর বছর নিশ্চিন্তে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।




