দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক এবং সুশৃঙ্খল করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সারা দেশের সব ধরনের গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ট্র্যাকিং ডিভাইস সংযুক্ত করা এবং তা সার্বক্ষণিক চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
হঠাৎ কেন এই নিয়ম? এর প্রভাব সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের ওপর কীভাবে পড়বে? চলুন সহজ ভাষায় বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কেন জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হলো?
আমাদের দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রায়শই বেপরোয়া গতি, অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালনা এবং সড়ক দুর্ঘটনার খবর আমরা পাই। বিআরটিএ ও সড়ক পরিবহন বিভাগ মনে করছে, গণপরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব।
জিপিএস চালু করার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:
- গাড়ির গতি পর্যবেক্ষণ: গাড়িটি কত গতিতে চলছে তা সরাসরি নজরদারিতে থাকবে।
- নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: দূরপাল্লার বাস কিংবা লোকাল পরিবহনে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত অবস্থান শনাক্ত করা যাবে।
- যাত্রী সেবা উন্নত করা: পরিবহনগুলো নির্দিষ্ট রুট ধরে চলছে কি না তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রজ্ঞাপন ও নতুন নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে?
বিআরটিএর প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আজ ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক হিসেবে কার্যকর হচ্ছে।
বিআরটিএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এখন থেকে নতুন কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কিংবা পুরোনো গাড়ির ফিটনেস সনদ নবায়ন করতে হলে জিপিএস ব্যবহারের প্রমাণ দেখাতে হবে।
পরিবহন মালিকদের করণীয় কী?
যানবাহনের মালিকদের জন্য বিআরটিএ থেকে বেশ কিছু স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- ডিভাইসের টেকনিক্যাল তথ্য: জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় অফিস থেকে সরাসরি কিংবা বিআরটিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.brta.gov.bd) থেকে পাওয়া যাবে।
- কাগজপত্র জমা দেওয়া: ১ আগস্ট থেকে ফিটনেস বা রেজিস্ট্রেশনের সময় জিপিএস লাগানোর কাগজপত্র বিআরটিএ অফিসে জমা দিতে হবে।
- মোবাইল অ্যাপস প্রদর্শন: গাড়িতে যে জিপিএস চালু আছে, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সেটি বিআরটিএর কর্মকর্তাদের দেখাতে হবে।
আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে?
বিআরটিএ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা-২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি-৫৫ অনুসরণ করে এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদি কোনো গণপরিবহনে সঠিক জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করা না থাকে, তবে সেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না এবং ফিটনেস সনদ নবায়ন বাতিল করা হবে। অর্থাৎ জিপিএস ছাড়া সড়ক বা মহাসড়কে গণপরিবহন চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন খাতের উপকারিতা
এই নতুন প্রযুক্তিবান্ধব নিয়ম চালু হওয়ায় সড়ক পরিবহনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
- যাত্রীদের জন্য সুবিধা: যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
- মালিকদের জন্য সুবিধা: মালিকরা ঘরে বসেই দেখতে পারবেন তাদের গাড়ি কোথায় আছে এবং চালক কীভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন।
- প্রশাসনের জন্য সুবিধা: ট্রাফিক পুলিশ এবং বিআরটিএ দ্রুত যেকোনো আইন অমান্যকারী গাড়ি চিহ্নিত করতে পারবে।
বিআরটিএর বিশেষ আবেদন
বিআরটিএ সকল গণপরিবহন মালিক, চালক ও প্রতিনিধিদের অনুরোধ জানিয়েছে, অতি দ্রুত নিজেদের গাড়িতে উপযুক্ত জিপিএস প্রযুক্তি যুক্ত করে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে। নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থা আরও আধুনিক হবে।




