বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে সাবেক গণভবনে গড়ে তোলা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। আগামী ৬ আগস্ট থেকে এই জাদুঘরটি সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এই ঐতিহাসিক স্থানটি দেখতে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জাদুঘরে যাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই টিকিট সম্পর্কিত নিয়মগুলো জানতে হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধা ও ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেছে। হঠাৎ গিয়ে সরাসরি প্রবেশ করার সুযোগ থাকছে না। তাই কীভাবে টিকিট কাটবেন এবং টিকিটের দাম কত, তা জেনে নেওয়া খুব জরুরি।
জুলাই জাদুঘরের টিকিটের দাম কত?
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে খুব নামমাত্র প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করেছে। যেন সব বয়সের এবং সব শ্রেণীর মানুষ সহজেই ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
- প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিট: ৫০ টাকা।
- শিশুদের জন্য টিকিট: ২৫ টাকা।
এই নির্ধারিত মূল্যের মাধ্যমে যেকোনো সাধারণ নাগরিক জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ইতিহাসের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন ও প্রদর্শনী দেখার সুযোগ পাবেন।
অনলাইনে জুলাই জাদুঘরের টিকিট কাটার সহজ উপায়
জাদুঘরের ভেতরে যেন অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য সময়ভিত্তিক প্রবেশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। আপনাকে আগেই নিজের সুবিধামতো সময় নির্বাচন করে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিট কাটার পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
১ম ধাপ: ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমেই আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ‘জুলাই ৩৬’ নামের অফিসিয়াল সরকারি টিকিট বুকিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
২য় ধাপ: অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইল নিবন্ধন
ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর আপনাকে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং মৌলিক কিছু তথ্য দিয়ে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট বা নিবন্ধন (Registration) সম্পন্ন করতে হবে।
৩য় ধাপ: সময় ও তারিখ নির্বাচন
নিবন্ধন শেষ হলে আপনি কত তারিখে এবং কোন সময় জাদুঘরে যেতে চান, তা বেছে নিন। সকাল, দুপুর বা বিকালের নির্দিষ্ট স্লট দেওয়া থাকবে। আপনার ফ্রি সময় অনুযায়ী যেকোনো একটি টাইম স্লট সিলেক্ট করুন।
৪র্থ ধাপ: টিকিট বুকিং ও পেমেন্ট
আপনার সাথে কতজন বড় মানুষ বা শিশু যাবে, সেই সংখ্যা দিয়ে টিকিটের মোট মূল্য পেমেন্ট করুন। বিকাশ, নগদ বা যেকোনো অনলাইন মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে টিকিটটি ডাউনলোড করে নিন।
জাদুঘরে প্রবেশের নিয়মাবলী ও সময়সূচী
স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। এতে আপনার সফরটি সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে:
- অনলাইন টিকিট বাধ্যতামূলক: কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট বিক্রির ঝামেলা এড়াতে আগেই অনলাইনে কেটে রাখা ডিজিটাল টিকিট সঙ্গে রাখতে হবে।
- নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি: আপনার টিকিটে যে সময় দেওয়া থাকবে, ঠিক সেই সময়ের মধ্যে জাদুঘরের গেটে পৌঁছাতে হবে।
- পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা: জাদুঘরের ইতিহাস ও সৌন্দর্য রক্ষায় পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করুন।
জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ইতিহাস
গত ৫ আগস্ট সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিনটি ছিল মূলত বিশেষ অতিথি এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সম্মানিত সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত।
ঐতিহাসিক গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। দেশের সচেতন প্রতিটি নাগরিকই এখন এই জাদুঘরটি এক নজর দেখতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। আপনিও যদি পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের নিয়ে এখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আজই অনলাইনে নিবন্ধনের কাজ সেরে ফেলুন।




