এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য একটি বড় সুখবর নিয়ে এলো নতুন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসা শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কর্তৃক এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে অনুমোদন লাভ করেছে।
উৎসব ভাতা ও বাজেট বরাদ্দ
শিক্ষামন্ত্রীর পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, উৎস ভাতার হার ১০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য আলাদাভাবে বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- স্কুল পর্যায়: শিক্ষকদের উৎসব ভাতার জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৪ শত টাকা প্রয়োজন হবে।
- কলেজ পর্যায়: শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা প্রয়োজন।
- মোট বরাদ্দ: সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার ৮ শত টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্কুলের বেতন খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৫৯ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দের চাহিদাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নতুন সরকারের লক্ষ্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন অর্থ বিভাগের সচিবকে পাঠানো ডিও লেটারে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৫০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকার প্রাথমিক ব্যয়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকারসমূহ:
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন।
- দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি।
- শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
- সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা প্রসারে গুরুত্ব।
- শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
শিক্ষকদের প্রত্যাশা
শিক্ষক সংগঠনের নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, উৎসব ভাতার এই বর্ধিত হার শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মনোবল বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই অনুমোদন বাস্তবায়নের ফলে সারাদেশের হাজার হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি এবং তা কার্যকর করার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষক সমাজ। শিক্ষা খাতে নতুন সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




