রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬

সৌদি আরবে বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে জি-টু-জি ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তাব

বহুল পঠিত

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ডাক্তার, নার্স, কেয়ারগিভার ও স্বাস্থ্য-টেকনিশিয়ান পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে জি-টু-জি (Government-to-Government) ভিত্তিক একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ।
রিয়াদে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: কী আলোচনা হলো?

রিয়াদে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া এবং সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্র্যাক্টিং ও বিদেশি অফিস বিষয়ক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ বিন হাসান আল-দুগাইসার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
সরকারি নথি অনুসারে, এই বৈঠকে দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতে কর্মী বিনিময়, মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

২০২৪–২৫ সালে ১,২০০ নার্স নিয়োগকে সৌদি পক্ষের প্রশংসা

বৈঠকে সৌদি আরব ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১,২০০ জন বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট নার্স নিয়োগের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক ও সফল পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নার্সদের কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব, ভাষাজ্ঞান এবং প্রশিক্ষণ উন্নয়নে সৌদি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চাওয়া হয়।

প্রোমেট্রিক পরীক্ষা ছাড়ের প্রস্তাব

নার্সদের বেসরকারি খাতে নিয়োগ জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রোমেট্রিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া
বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছে-

  • সরকারি হাসপাতালের মতো বিকল্প মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি
  • বিশেষ ক্ষেত্রে প্রোমেট্রিক পরীক্ষার ছাড়
  • লাইসেন্সিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা

এতে বাংলাদেশি নার্সদের নিয়োগ আরও দ্রুত ও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসসিএফএইচএস-এর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার

সৌদি কমিশন ফর হেলথ স্পেশালটিজ (SCFHS)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে-

  • লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া দ্রুত করা
  • পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়ন
  • যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
  • প্রশিক্ষণ ও স্কিল ভ্যালিডেশন

এসব উদ্যোগ দুই দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও ঘনিষ্ঠ করবে।

সৌদি আরবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সের ব্যাপক চাহিদা

বৈঠকে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের স্বাস্থ্যখাতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্স সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
বর্তমানে বাংলাদেশি নার্সরা সাধারণ ওয়ার্ডে টেকনিক্যাল নার্স হিসেবে কাজ করলেও ভবিষ্যতে তাদের—

  • ক্রিটিক্যাল কেয়ার
  • আইসিইউ
  • ইমার্জেন্সি কেয়ার
  • হাই-টেক ইউনিটে

নিয়োগের সম্ভাবনা বাড়ছে।

হেলথ হোল্ডিং কোম্পানি (HHC) এখন পুরো নিয়োগ পরিচালনা করছে

সৌদি আরব জানায়-

  • স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর সরাসরি নিয়োগ দেয় না
  • এখন হেলথ হোল্ডিং কোম্পানি (HHC) পুরো নিয়োগ তদারকি করে
  • এতে নিয়োগ আরও কাঠামোবদ্ধ, স্বচ্ছ ও দক্ষতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়

বাংলাদেশ এই নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জি-টু-জি ফ্রেমওয়ার্ক আপডেটের প্রস্তাব করে।

স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে বাধ্যতামূলক শর্তসমূহ

বর্তমানে সৌদি আরবে নার্স নিয়োগে যেসব শর্ত বাধ্যতামূলক-

  • প্রোমেট্রিক পরীক্ষা
  • পেশাগত অভিজ্ঞতা
  • সৌদি হেলথ কাউন্সিলের পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি
  • সৌদি লাইসেন্স
  • মেডিক্যাল মালপ্র্যাকটিস বীমা

বাংলাদেশ এসব শর্ত পূরণে নার্সদের আরও দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জি-টু-জি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে নতুন সম্ভাবনা

জি-টু-জি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে-

  • স্বাস্থ্যখাতে বৃহত্তর নিয়োগ সুযোগ সৃষ্টি হবে
  • ভিসা ও ডকুমেন্টেশন সহজ হবে
  • প্রতারণা ও অতিরিক্ত খরচ কমবে
  • সরকারি তত্ত্বাবধানে নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে

এই উদ্যোগকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য উজ্জ্বল সম্ভাবনা

ক্রমবর্ধমান চাহিদা, সরকারি উদ্যোগ এবং সৌদি স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক রূপান্তরের কারণে বাংলাদেশি-

  • ডাক্তার
  • নার্স
  • টেকনিশিয়ান
  • কেয়ারগিভার সব ক্ষেত্রেই নিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

এই জি-টু-জি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ তৈরি হবে।

আরো পড়ুন

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ও প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে দেশকে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

কৃষি কার্ড, ১০ হাজার কোটি ঋণ মওকুফ ও ৪৭৫ মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু

বাংলাদেশের কৃষিখাতে একের পর এক ইতিবাচক উদ্যোগ দেশব্যাপী আশার আলো ছড়াচ্ছে। কৃষির উন্নয়ন হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ।

স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক পরিবেশে উদযাপন শুরু

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ- বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অনন্য, গৌরবোজ্জ্বল ও সংগ্রামী অধ্যায়ের মাস। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে অধিকার প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন এই মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসেই রচিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা, উচ্চারিত হয়েছিল স্বাধীনতার অমর ঘোষণা।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ