স্কুল ব্যাংকিং: পরিচিতি এবং ইতিহাস
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি হলো স্কুল ব্যাংকিং। ২০১০ সালের আগে শুধুমাত্র ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন। টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে তখন স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ চালু করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড নিয়ে একজন শিক্ষার্থী মাত্র ১০০ টাকা জমার বিপরীতে যেকোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। দেশের প্রচলিত আইনে ১৮ বছরের কম বয়সীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত, যে কারণে এক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অল্প বয়স থেকেই ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।
স্কুল ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিসংখ্যান
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় ২৬ হাজার ৪৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মোট ৪৮ লাখ ৫ হাজার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার মধ্যে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৫২.৭৪ শতাংশই গ্রামে এবং ৪৭.২৬ শতাংশ শহর অঞ্চলে রয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্রদের অ্যাকাউন্ট ৫০.৮১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের অ্যাকাউন্ট ৪৯.১৯ শতাংশ। দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে দুটি ছাড়া সব ব্যাংকেরই স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে গ্রামীণ এলাকায় স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শহরাঞ্চলের তুলনায় বেশি সফল হয়েছে, এবং ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীরাই প্রায় সমান অংশগ্রহণ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ ও নির্দেশনা
আর্থিক শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি বছর থেকে প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মার্চ মাসের এক নির্দেশনায় সব ব্যাংকের প্রতিটি শাখার নিকটবর্তী অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও, প্রতিটি শাখার উদ্যোগে চলতি বছরের মধ্যে অন্তত ৩০০টি করে নতুন হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সেপ্টেম্বরের মধ্যে খোলার কথা ১০০টি করে হিসাব। ব্যাংকগুলোকে নিয়মিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পালন, শিক্ষার্থীদের হিসাব খোলা ও লেনদেন সেবা দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দ্বৈততা এড়াতে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শাখা নির্বাচন করতে হবে।
আর্থিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে নিয়মিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পালন করতে হবে। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের আর্থিক শিক্ষা প্রদান করা। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের আর্থিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর উদ্যোগে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আর্থিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অর্থ ব্যবস্থাপনা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারে সক্ষম হবে। এসব কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে চলতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৩টি স্কুল ব্যাংকিং সম্মেলনও আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনগুলোতে শিক্ষার্থীরা আর্থিক বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং ব্যাংকিং খাতের সাথে পরিচিত হতে পারে।
স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলার পদ্ধতি ও শর্তাবলী
একজন শিক্ষার্থী খুব সহজেই ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড নিয়ে যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে মাত্র ১০০ টাকা জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত, যে কারণে এক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা এসব হিসাব যেন একটি পর্যায়ে বন্ধ বা বাতিল না হয়, সেজন্য কারো বয়স ১৮ বছর পার হলে তা সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তর করতে বলা হয়েছে। এই নিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের সঞ্চয় চালিয়ে যেতে পারে এবং ব্যাংকিং সেবার সাথে যুক্ত থাকতে পারে। স্কুল ব্যাংকিংয়ে হিসাব খোলার পর পরবর্তী সময়ে সাধারণ হিসাবে রূপান্তর হয়েছে ১১ লাখ ৮৭ হাজার অ্যাকাউন্ট।
গ্রাম ও শহরে স্কুল ব্যাংকিংয়ের বিস্তার
স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশের গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই সফলভাবে বিস্তৃত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মধ্যে ৫২.৭৪ শতাংশই গ্রামে এবং ৪৭.২৬ শতাংশ শহর অঞ্চলে রয়েছে। রাজধানীসহ সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় স্থাপিত শাখার আওতায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শহর শাখার সেবা হিসেবে বিবেচিত হয়। গ্রামীণ অঞ্চলে স্কুল ব্যাংকিংয়ের অধিক সফলতার কারণ হতে পারে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভব করা। এছাড়াও, ব্যাংকগুলো গ্রামীণ এলাকায় তাদের শাখা সম্প্রসারণের সময় স্কুল ব্যাংকিংকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দ্বৈততা এড়াতে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শাখা নির্বাচন করতে হবে, যা গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই সমানভাবে স্কুল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করছে।
ছাত্র ও ছাত্রী সমতা ও স্কুল ব্যাংকিং
গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোলা মোট হিসাবের মধ্যে ছাত্রদের রয়েছে ৫০.৮১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের রয়েছে ৪৯.১৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে ছাত্র ও ছাত্রী উভয়েই প্রায় সমান অংশগ্রহণ করছে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে। এটি নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কেননা অল্প বয়স থেকেই ছাত্রীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা এসব হিসাব যেন একটি পর্যায়ে বন্ধ বা বাতিল না হয়, সেজন্য কারো বয়স ১৮ বছর পার হলে তা সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তর করতে বলা হয়েছে। এর ফলে, ছাত্রীরাও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাদের আর্থিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে।
স্কুল ব্যাংকিং ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
আর্থিক শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করেছে। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। দেশের সাড়ে ২৬ হাজার প্রতিষ্ঠান স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় এসেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৪৮ লাখের বেশি এবং জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অল্প বয়স থেকেই ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। এছাড়াও, তারা আর্থিক পরিকল্পনা, বাজেট তৈরি, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্যাংকগুলোর স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম
দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে দুটি ছাড়া সব ব্যাংকেরই স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনতে হবে। ব্যাংকগুলোকে নিয়মিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পালন, শিক্ষার্থীদের হিসাব খোলা ও লেনদেন সেবা দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দ্বৈততা এড়াতে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শাখা নির্বাচন করতে হবে। প্রতি তিন মাস পরপর ব্যাংকগুলোকে তাদের অগ্রগতি প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হচ্ছে। প্রতিটি শাখার উদ্যোগে চলতি বছরের মধ্যে অন্তত ৩০০টি করে নতুন হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সেপ্টেম্বরের মধ্যে খোলার কথা ১০০টি করে হিসাব। ব্যাংকগুলো এসব নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে।
স্কুল ব্যাংকিং সম্মেলন ও সচেতনতা কার্যক্রম
চলতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৩টি স্কুল ব্যাংকিং সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনগুলোতে শিক্ষার্থীরা আর্থিক বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং ব্যাংকিং খাতের সাথে পরিচিত হতে পারে। সম্মেলনগুলোতে সাধারণত আর্থিক শিক্ষা, সঞ্চয়ের গুরুত্ব, বিনিয়োগ, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও, ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পালন করে থাকে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অর্থ ব্যবস্থাপনা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এই সচেতনতা কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীরা অল্প বয়স থেকেই আর্থিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করে।
স্কুল ব্যাংকিং হিসাব থেকে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তর
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা এসব হিসাব যেন একটি পর্যায়ে বন্ধ বা বাতিল না হয়, সেজন্য কারো বয়স ১৮ বছর পার হলে তা সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তর করতে বলা হয়েছে। এই নিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের সঞ্চয় চালিয়ে যেতে পারে এবং ব্যাংকিং সেবার সাথে যুক্ত থাকতে পারে। স্কুল ব্যাংকিংয়ে হিসাব খোলার পর পরবর্তী সময়ে সাধারণ হিসাবে রূপান্তর হয়েছে ১১ লাখ ৮৭ হাজার অ্যাকাউন্ট। এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর, তারা তাদের সঞ্চয় চালিয়ে যেতে পারে এবং ব্যাংকের অন্যান্য সেবা গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও, তারা ঋণ, ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য আর্থিক সেবার জন্য আবেদন করতে পারে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্য করে এবং তাদের ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
স্কুল ব্যাংকিংয়ের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দেশের সাড়ে ২৬ হাজার প্রতিষ্ঠান স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় এসেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৪৮ লাখের বেশি এবং জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এই সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আর্থিক শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য স্কুল ব্যাংকিংকে আরও জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, প্রতিটি শাখার উদ্যোগে চলতি বছরের মধ্যে অন্তত ৩০০টি করে নতুন হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
স্কুল ব্যাংকিংয়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অল্প বয়স থেকেই ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। এছাড়াও, তারা আর্থিক পরিকল্পনা, বাজেট তৈরি, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলে, যা দেশের জাতীয় সঞ্চয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। গ্রামীণ অঞ্চলে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের সাফল্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। সামগ্রিকভাবে, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশে স্কুল ব্যাংকিং কবে থেকে চালু হয়?
উত্তর: বাংলাদেশে ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সিরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন। টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে তখন স্কুল শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ চালু হয়।
প্রশ্ন ২: স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসেছে?
উত্তর: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় ২৬ হাজার ৪৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসেছে।
প্রশ্ন ৩: স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় কতগুলো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং জমার পরিমাণ কত?
উত্তর: স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় মোট ৪৮ লাখ ৫ হাজার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার মধ্যে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
প্রশ্ন ৪: স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে কী কী প্রয়োজন?
উত্তর: স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড নিয়ে যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে মাত্র ১০০ টাকা জমা দিতে হয়। যেহেতু ১৮ বছরের কম বয়সীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত, সেক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হয়।
প্রশ্ন ৫: স্কুল ব্যাংকিং হিসাব কীভাবে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা হিসাবগুলো যেন বন্ধ বা বাতিল না হয়, সেজন্য কারো বয়স ১৮ বছর পার হলে তা সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তর করতে বলা হয়েছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ে হিসাব খোলার পর পরবর্তী সময়ে সাধারণ হিসাবে রূপান্তর হয়েছে ১১ লাখ ৮৭ হাজার অ্যাকাউন্ট।
প্রশ্ন ৬: স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে কোন কোন ব্যাংকগুলো অংশগ্রহণ করছে?
উত্তর: দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে দুটি ছাড়া সব ব্যাংকেরই স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে।
প্রশ্ন ৭: বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য কী কী নির্দেশনা দিয়েছে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা, নিয়মিতভাবে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পালন, শিক্ষার্থীদের হিসাব খোলা ও লেনদেন সেবা দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দ্বৈততা এড়ানো, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা, এবং প্রতি তিন মাস পরপর অগ্রগতি প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো।
প্রশ্ন ৮: স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মধ্যে গ্রাম ও শহরের অনুপাত কেমন?
উত্তর: স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মধ্যে ৫২.৭৪ শতাংশই গ্রামে এবং ৪৭.২৬ শতাংশ শহর অঞ্চলে রয়েছে। রাজধানীসহ সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় স্থাপিত শাখার আওতায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শহর শাখার সেবা হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন ৯: স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে ছাত্র ও ছাত্রীদের অনুপাত কেমন?
উত্তর: স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে ছাত্র ও ছাত্রীদের অনুপাত প্রায় সমান। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোলা মোট হিসাবের মধ্যে ছাত্রদের রয়েছে ৫০.৮১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের রয়েছে ৪৯.১৯ শতাংশ।
প্রশ্ন ১০: স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদারের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদারের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: চলতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৩টি স্কুল ব্যাংকিং সম্মেলন আয়োজন করা, প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া, এবং প্রতিটি শাখার উদ্যোগে চলতি বছরের মধ্যে অন্তত ৩০০টি করে নতুন হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া।
প্রশ্ন ১১: স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কী?
উত্তর: স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অল্প বয়স থেকেই ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। এছাড়াও, তারা আর্থিক পরিকল্পনা, বাজেট তৈরি, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।