শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা ঋতু যাই হোক না কেন, বছরের যেকোনো সময়েই কম-বেশি অনেক মানুষ ব্রণের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। আমাদের ত্বকের ছোট ছোট লোমকূপে যখন অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি এবং মৃত কোষ জমে যায়, তখনই সাধারণত মুখে ব্রণ দেখা দেয়।
এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বাজারে পাওয়া নানারকম দামি কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, সেগুলোতে কোনো কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না, উল্টো ত্বকের ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বা খুব বেশি গুরুতর ব্রণের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই এই সমস্যা খুব সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই উপায়গুলো:
রসুনের জাদুকরী গুণ
রসুন শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, বরং ব্রণ কমাতেও এটি দারুণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। রসুনে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করে।
কয়েক কোয়া রসুন ভালো করে থেঁতো করে তার থেকে রস বের করে নিন। এবার এই রস সরাসরি ব্রণের ওপর হালকা করে লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ত্বক ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। যাদের ত্বক খুব বেশি সংবেদনশীল নয়, তারা চাইলে এটি রাতে লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
লেবুর রস ও দারুচিনির মিশ্রণ
লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বককে জীবাণুমুক্ত করে এবং দারুচিনি ত্বকের প্রদাহ কমায়।
সামান্য লেবুর রসের সঙ্গে এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে একটি চমৎকার পেস্ট তৈরি করুন। রাতে ঘুমানোর আগে এই পেস্টটি ব্রণের স্থানে সাবধানে লাগিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের আকার দ্রুত ছোট হয়ে আসবে।
ত্বকে শীতলতা ছড়াতে শসার ব্যবহার
রূপচর্চায় বা ত্বকের যত্নে শসার ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। শসায় থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী।
একটি শসা ভালো করে থেঁতো করে বা গ্রেট করে মুখে কিছু সময় লাগিয়ে রাখুন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া শসা টুকরো করে পানিতে ভিজিয়ে রেখে, সেই পানি দিয়ে মুখ ধোয়া বা পান করা দুটোই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
অ্যাসপিরিন ট্যাবলেটের ব্যবহার
শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও, ব্যথানাশক অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ব্রণ শুকাতে দারুণ কার্যকরী। কারণ অ্যাসপিরিনে রয়েছে ‘স্যালিসাইলিক অ্যাসিড’, যা ব্রণের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া দূর করে।
কয়েকটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ভালো করে গুঁড়ো করে সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এরপর ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। রাতে ব্যবহার করে সকালে ধুয়ে ফেললে খুব দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে আপনার ত্বক যদি অনেক বেশি সংবেদনশীল বা সেনসিটিভ হয়, তবে এটি অল্প সময় রেখেই ধুয়ে ফেলা উচিত।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গ্রিন টি
আজকাল ওজন কমানোর জন্য অনেকেই গ্রিন টি পান করেন। তবে ব্রণ কমাতে গ্রিন টি সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায় এবং এটি বেশ কার্যকর।
প্রথমে গ্রিন টি তৈরি করে তা ভালোভাবে ঠান্ডা করে নিন। এরপর একটি তুলা বা ব্যবহৃত টি-ব্যাগ ব্রণের জায়গায় আলতো করে চেপে ধরুন। কিছুক্ষণ রেখে সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট। এটি ত্বকের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং লালচে ভাব কমায়।
মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং ব্রণের হাত থেকে বাঁচতে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা, তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। তবে ঘরোয়া উপায়ের পরও যদি সমস্যা অনেক বেশি বেড়ে যায়, তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।




