ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়। প্রথম গভর্নর হিসেবে এ.এন.এম. হামিদুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পূর্বে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঢাকা শাখা ছিল যা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়। মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়টি দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতীক দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মুদ্রা স্থিতিশীল রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা করা। বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে সরকারের ব্যাংকার এবং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। এটি ব্যাংকিং খাতের তদারকি করে এবং আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সাংগঠনিক কাঠামো
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পরিষদ দ্বারা পরিচালিত হয়। গভর্নর হলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন। চারজন ডেপুটি গভর্নর গভর্নরকে সহায়তা করেন। পরিচালনা পরিষদে গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর এবং অন্যান্য সদস্যরা থাকেন। বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রধান কার্যালয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা অফিস রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংকিং তদারকি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। প্রতিটি বিভাগের নেতৃত্বে থাকেন একজন নির্বাহী পরিচালক। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিভিন্ন পদে নিয়োজিত থাকেন। সাংগঠনিক কাঠামোটি কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো সময়ের সাথে সাথে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
মুদ্রানীতি
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত। মুদ্রানীতি মূলত মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মুদ্রানীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে নীতি সুদের হার, রিজার্ভ প্রয়োজনীয়তা, উন্মুক্ত বাজার কার্যক্রম ইত্যাদি। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি ঘোষণা প্রতি ছয় মাসে একবার করে থাকে। এই নীতিমালা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তৈরি করা হয়। মুদ্রানীতির লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমর্থন করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক পর্যবেক্ষণ করে মুদ্রানীতি সমন্বয় করে। মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
ব্যাংকিং খাত তদারকি
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের তদারকি করে। এটি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে। এটি ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পর্যালোচনা করে। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ নীতিমালা প্রণয়ন করে। এটি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ হ্রাস করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা জারি করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। এটি ব্যাংকগুলোর শাখা সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয়। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
মুদ্রা ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এটি বাংলাদেশি টাকা মুদ্রণ ও প্রচলনের কাজ করে। নোট ও কয়েন উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে থাকে। নতুন নোট ও কয়েন বাজারে ছাড়ার আগে এর নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নোট ও কয়েনের গুণগত মান নিশ্চিত করে। এটি পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত মুদ্রা প্রত্যাহার করে থাকে। মুদ্রা পাচার রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জাল নোট প্রতিরোধে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মুদ্রার নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সময়ে সময়ে আধুনিক করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ স্মারক নোট প্রকাশ করে থাকে। এটি মুদ্রা সংক্রান্ত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন বিভাগ কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সুবিধা ব্যবহার করে।
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এটি বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ রক্ষণাবেক্ষণ করে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার হার নির্ধারণে সহায়তা করে। এটি বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান প্রণয়ন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানি ও আমদানি নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা পালন করে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মাবলী নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তদারকি করে। এটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। এটি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং উদ্যোগের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করছে। এটি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মোবাইল আর্থিক সেবা প্রসারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। এটি জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিউআর কোড ভিত্তিক লেনদেন পদ্ধতি চালু করেছে। এটি ই-কমার্স লেনদেনের জন্য নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের জন্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এটি ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য গবেষণা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। এটি ফিনটেক কোম্পানিগুলোকে সহায়তা প্রদান করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। এটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তির জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালাচ্ছে। এটি কৃষকদের জন্য কৃষি ঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঋণ সুবিধা প্রদান করে। এটি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তিতে বাধা হ্রাস করার জন্য কাজ করছে। এটি ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তির জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা সহজ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তিতে বৈষম্য দূর করার জন্য কাজ করছে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
সরকারের ব্যাংকার হিসেবে ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ব্যাংকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সরকারের আর্থিক লেনদেনের তদারকি করে। সরকারি রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি সরকারি ঋণ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি সিকিউরিটিজ ইস্যু ও পরিচালনার জন্য সহায়তা করে। এটি সরকারের আর্থিক নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে সহায়তা করে। এটি সরকারি প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিচালনার জন্য সহায়তা করে। এটি সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে সহায়তা করে। এটি সরকারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ প্রদান করে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বব্যাংকের সাথে সহযোগিতা করে। এটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সাথে কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে। এটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ দমনে সহায়তা করে। এটি আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। এটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে।
গবেষণা ও প্রকাশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাত সম্পর্কে গবেষণা পরিচালনা করে। এটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও গবেষণার জন্য একটি বিভাগ পরিচালনা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটি ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটি ব্যাংকিং খাতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন আর্থিক নীতিমালা সম্পর্কে গবেষণা পরিচালনা করে। এটি আর্থিক খাতের উন্নয়নের জন্য গবেষণা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করে। এটি আর্থিক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক গবেষণার জন্য বৃত্তি প্রদান করে। এটি আর্থিক গবেষণার ফলাফল নীতি প্রণয়নে ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক গবেষণার জন্য একটি লাইব্রেরি পরিচালনা করে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশিক্ষণ একাডেমি পরিচালনা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং পেশাদারদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স অফার করে। এটি ব্যাংকিং খাতের নতুন কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এটি ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স অফার করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে। এটি বিদেশি প্রশিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স অফার করে। এটি ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রশিক্ষণ পদ্ধতি আধুনিক করছে। এটি ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের সুশাসন উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ব্যাংকিং খাতের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের উদ্ভাবনী সেবা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক মান অর্জনের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ব্যাংকিং খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশ ব্যাংক কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়। স্বাধীনতার পর দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।
প্রশ্ন ২: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। এই ভবনটি দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস রয়েছে।
প্রশ্ন ৩: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন গভর্নর। গভর্নরকে সহায়তা করার জন্য চারজন ডেপুটি গভর্নর থাকেন। গভর্নর সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন।
প্রশ্ন ৪: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কী?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি হলো মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এর মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাসে একবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। এই নীতিমালা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন ৫: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে ব্যাংকিং খাত তদারকি করে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী দেশের সকল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের তদারকি করে। এটি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং খেলাপি ঋণ হ্রাস করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
প্রশ্ন ৬: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এটি বাংলাদেশি টাকা মুদ্রণ ও প্রচলনের কাজ করে। নোট ও কয়েন উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক নোট ও কয়েনের গুণগত মান নিশ্চিত করে এবং পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত মুদ্রা প্রত্যাহার করে থাকে। এটি জাল নোট প্রতিরোধে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রশ্ন ৭: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এটি বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ রক্ষণাবেক্ষণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার হার নির্ধারণে সহায়তা করে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান প্রণয়ন করে। এটি রপ্তানি ও আমদানি নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা পালন করে এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।
প্রশ্ন ৮: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে ডিজিটাল ব্যাংকিং উদ্যোগ গ্রহণ করছে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং উদ্যোগের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করছে। এটি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মোবাইল আর্থিক সেবা প্রসারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এটি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে এবং জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিউআর কোড ভিত্তিক লেনদেন পদ্ধতি চালু করেছে এবং ই-কমার্স লেনদেনের জন্য নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন করেছে।
প্রশ্ন ৯: বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করছে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। এটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তির জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করে এবং নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালাচ্ছে।
প্রশ্ন ১০: বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ব্যাংকার হিসেবে কী ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ব্যাংকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সরকারের আর্থিক লেনদেনের তদারকি করে। সরকারি রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি সরকারি ঋণ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত এবং সরকারি সিকিউরিটিজ ইস্যু ও পরিচালনার জন্য সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের আর্থিক নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে এবং সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
প্রশ্ন ১১: বাংলাদেশ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। এটি ব্যাংকিং খাতের সুশাসন উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ব্যাংকিং খাতের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।