আমাদের মধ্যে অনেকেই এখন ব্যাংক কার্ড থেকে বিকাশ, নগদ কিংবা রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা নিয়ে আসেন। ঘরে বসে ‘অ্যাড মানি’ করার এই সুবিধা যেমন সহজ, তেমনই এর অপব্যবহার করে কিছু প্রতারক চক্র জালিয়াতিও করছিল।
এই প্রতারণা রুখতে এবং গ্রাহকদের টাকার নিরাপত্তা বাড়াতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো ব্যাংকের কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা আনার ক্ষেত্রে নতুন কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রথমবার কার্ড যুক্ত করতে লাগবে ‘টোকেন লেনদেন’
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যদি প্রথমবার কোনো ব্যাংক কার্ড আপনার বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে যুক্ত (Link) করতে চান, তবে সরাসরি বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন করা যাবে না।
- প্রথমবার কার্ড যুক্ত করার সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ বা ট্রায়াল ট্রানজেকশন করা বাধ্যতামূলক।
- এই ৫০০ টাকার প্রথম লেনদেনটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আপনাকে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।
- ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর আপনার কার্ডটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সাথে পুরোপুরি সক্রিয় বা অ্যাক্টিভ হবে।
- এরপর থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনমতো স্বাভাবিকভাবে যেকোনো পরিমাণ টাকা ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
১ আগস্ট থেকে মিলবে বিশেষ ছাড়
বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নির্দেশনায় আরও একটি দারুণ খবর জানিয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে যাদের ব্যাংক কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) অ্যাকাউন্টের নাম হুবহু এক থাকবে, তাদের আর এই ২৪ ঘণ্টার নিয়ম বা ৫০০ টাকার টোকেন লেনদেন করতে হবে না। অর্থাৎ, একই ব্যক্তির নামে কার্ড ও বিকাশ/নগদ অ্যাকাউন্ট থাকলে সরাসরি কার্ড যুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে।
ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য নির্দেশনা
গ্রাহকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগুলোর জন্যও কিছু কড়া নিয়ম ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক:
- মার্চেন্ট পেমেন্ট নয়: কার্ড থেকে এমএফএস-এ টাকা আনাকে আর ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে দেখানো যাবে না। এটিকে এখন থেকে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ বা তহবিল স্থানান্তর হিসেবে গণ্য করতে হবে।
- পরিচয় স্পষ্ট রাখা: লেনদেনের সময় কোন মোবাইল নম্বরে টাকা যাচ্ছে (বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর), তা যেন কার্ড প্রদানকারী ব্যাংকের কাছে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
- ডেডলাইন ৩১ জুলাই: নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে চালু করতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে এটি করতে না পারে, তবে ১ আগস্ট থেকে সেই কার্ডের মাধ্যমে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কেন এই নতুন নিয়ম?
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রতারক চক্র অবৈধভাবে দেশি ও বিদেশি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে নিচ্ছিল। এই ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বন্ধ করতে এবং সাধারণ গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে কার্ডের আসল মালিক নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল বড় অঙ্কের লেনদেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে। তাই নতুন এই নিয়মের কারণে গ্রাহকদের কিছুটা সময় লাগলেও তাদের কষ্টার্জিত অর্থ থাকবে একদম নিরাপদ।




