ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এবারই প্রথম রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে ফুটবল বিশ্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মোট ১০৪টি ম্যাচের এক মহাযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যেমন উত্তেজনা তুঙ্গে, তেমনই বাংলাদেশেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক বাড়তি উন্মাদনা।
তবে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের জন্য রয়েছে অন্যরকম এক গর্বের কারণ। এই ফুটবল বিশ্বকাপে অফিশিয়ালি বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন ফারজিন গনি। তিনি একমাত্র বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবক) হিসেবে এবারের আসরে নির্বাচিত হয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য ইতোমধ্যে গত ২ জুন তিনি কানাডার টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
রেকর্ড সংখ্যক ভলান্টিয়ারের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি
ফিফা এবারের মেগা আসরটি সফলভাবে পরিচালনার জন্য বিশ্বব্যাপী আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৬৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছে। লাখ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে থেকে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে ফারজিন গনির নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে দেশের জন্য একটি মস্ত বড় অর্জন।
এই বিশাল ভলান্টিয়ার বাহিনী বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়াম পরিচালনা, গ্যালারিতে দর্শক সহায়তা, টিকিট ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিক সাপোর্ট ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া সহায়তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করবেন।
কী কী সুবিধা ও অভিজ্ঞতা পাবেন ফারজিন গনি?
বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থা ফিফা নির্বাচিত ভলান্টিয়ারদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের আবাসন সুবিধা এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই ফুটবল উৎসবে ফারজিন গনি সরাসরি মাঠে থেকে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের কর্তাব্যক্তিদের সাথে সরাসরি কাজ করার মাধ্যমে এক দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার এক অনন্য সুযোগ পাবেন তিনি।
“ভলান্টিয়াররাই বিশ্বকাপের প্রাণশক্তি” ফিফা সভাপতি
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মতো এত বড় এবং যজ্ঞময় একটি টুর্নামেন্ট সফল করার পেছনে পর্দার পেছনের নায়করা হলেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। ভলান্টিয়ারদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, “ভলান্টিয়াররাই মূলত এই টুর্নামেন্টের আসল প্রাণশক্তি। তাদের আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং নিরলস পরিশ্রম ছাড়া এত বড় একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন সফল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দল অংশ নিতে না পারলেও, ফারজিন গনির মতো তরুণদের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধার এই স্বীকৃতি দেশের ফুটবল অঙ্গনের জন্য এক বিশাল ইতিবাচক বার্তা। পুরো বাংলাদেশ ফারজিন গনির এই নতুন ও গৌরবময় পথচলার সফলতার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।




