শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ দেশজুড়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
একনজরে গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানের বড় অর্জন
৭৮৩ জন গ্রেফতার
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২-এর আওতায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধচক্রের তৎপরতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন ১৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে বড় ধরনের সহিংস অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ব্যাপক তল্লাশি কার্যক্রম
অভিযানের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে
- ২০,৩৩৭টি মোটরসাইকেল
- ১৭,৯২৩টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি
তল্লাশি করা হয়েছে। এই তল্লাশির মাধ্যমে সন্দেহজনক চলাচল ও অপরাধপ্রবণ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
৩৫৬টি অবৈধ মোটরসাইকেল আটক
নিয়ম ভঙ্গকারী ও অবৈধভাবে চলাচল করা ৩৫৬টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা এবং অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান স্পষ্ট করে দিয়েছে- অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অপরাধী, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের জন্য এটি একটি শক্ত সতর্কবার্তা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সমন্বিত এ ধরনের অভিযান অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও দৃঢ় করবে।
পুলিশের অঙ্গীকার
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে,
“দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২সহ সব ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
নিরাপদ বাংলাদেশের পথে এক ধাপ এগিয়ে
পুলিশের এই সফল অভিযান প্রমাণ করে- নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ও সচেষ্ট। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
সুত্র: বাংলাদেশ পুলিশ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ