দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে এই মেগা প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনালটির উদ্বোধন করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের তথ্য জানান।
পরিচালনার দায়িত্বে জাপান ও আয়ের হিসাব
প্রতিমন্ত্রী জানান, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে জাপানের সঙ্গে সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুন-জুলাই মাসের মধ্যেই তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই টার্মিনাল থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার। এতে প্রতি বছর সরকারের কোষাগারে শতকোটি টাকা জমা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছর পর টার্মিনালটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে আসবে।
বাণিজ্যিক যাত্রা ও ফ্লাইটের সংখ্যা
উদ্বোধনের দিন থেকেই অন্তত ১০ থেকে ১৫টি ফ্লাইট নিয়ে টার্মিনালটি সচল হবে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রাথমিক শুরুর এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই টার্মিনালটি পূর্ণ উদ্যমে যাত্রা শুরু করবে। এতে করে বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ও লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও জটিলতা নিরসন
উল্লেখ্য যে, এই টার্মিনালটি নিয়ে এর আগে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অবকাঠামো অসম্পূর্ণ রেখে এবং নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধান না করেই আগের সরকার একবার এর উদ্বোধন করলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাপানকে বাদ দেওয়ার একটি চিঠি ইস্যু নিয়ে কূটনৈতিক জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুততম সময়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনা করে সব সমস্যা সমাধান করেছে।
কারিগরি ও নেটওয়ার্ক উন্নয়ন
টার্মিনালের বর্তমান কারিগরি সমস্যাগুলো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো ও নেটওয়ার্কের কাজগুলো এখন দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নেটওয়ার্ক সেবায় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হওয়ায় সিভিল এভিয়েশনকে নতুন কন্ট্রাক্ট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইটি মন্ত্রণালয় সরাসরি এই কাজের তদারকি করছে।
বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন হতে যাচ্ছে। জাপানি প্রযুক্ত ও দক্ষতায় এই টার্মিনালটি যখন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, তখন এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিতি পাবে। এটি দেশের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের জন্য এক নতুন মাইলফলক।




