Thursday, July 9, 2026

নীল নদের সংকটে আশার আলো: ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাজি মিসর ও সুদান

বহুল পঠিত

নীল নদের পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে মিসর ও সুদান। আলোচনায় বিতর্কিত গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) ইস্যুকেও অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশ দুটি।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি নীল নদকে আখ্যা দেন “মিসরীয় জাতির জীবনরেখা” হিসেবে। তিনি বলেন,

“আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে এবং কোনো দেশের ক্ষতি না করে সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করেই নীল অববাহিকার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় বিশ্বাসী মিসর।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে নীল নদে মিসরের পানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সুদানের নেতা আল-বুরহান বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব এমন একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে, যা সব দেশের অধিকার রক্ষা করবে এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার করবে।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দেন, মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে নীল নদ নিয়ে চলমান বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সক্রিয় মধ্যস্থতায় যেতে প্রস্তুত

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ নীল নদ?

৬,৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নীল নদ আফ্রিকার ১১টি দেশের জীবনধারার সঙ্গে জড়িয়ে আছে—
বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও মিসর।

এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা, যা প্রায় তিন হাজার বছর ধরে মানব ইতিহাসে প্রভাব বিস্তার করেছে

বিরোধের মূল কেন্দ্র: রেনেসাঁ ড্যাম

ইথিওপিয়া গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নীল নদের ওপর নির্মিত বিশাল GERD বাঁধের উদ্বোধন করে, যার নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ১৪ বছর।

তবে বাঁধটির পানি ভরাট ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে মিসর ও সুদানের সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরোধ এখনো তীব্র। দুই দেশই দাবি করে আসছে-

পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ যদি সফল হয়, তাহলে এটি কেবল তিন দেশের জন্য নয়—বরং পুরো উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার জন্য একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হয়ে উঠতে পারে।

নীল নদের তীরে আবারও কি শান্তির ধারা বইবে? এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর

আরো পড়ুন

মুসলিম দেশগুলো নিয়ে জোট গড়তে চায় ইরান: মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসন রুখতে নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ইসলামী বিশ্বের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। ইসলামী বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিশ্বের...

মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী: বীরদের সর্বোচ্চ সম্মাননা

বিশ্বের বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয় বীর বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ (Dag Hammarskjöld Medal) দিচ্ছে জাতিসংঘ।...

মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ। এই মহাসম্মেলনে অংশ নিতে সারাবিশ্ব থেকে আগত লাখ লাখ হাজি নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ