ইনিংসের শেষভাগে যেন রীতিমতো আগুন ঝরাল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একের পর এক ছক্কার ঝড়ে মুহূর্তেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। আফগান তরুণ তারকা হাসান ইসাখিলের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরি আর অধিনায়ক হায়দার আলীর নিখুঁত সঙ্গ- সব মিলিয়ে হোম অব ক্রিকেটে দাঁড়িয়ে গেল বিশাল ও চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একেবারেই মসৃণ ছিল না নোয়াখালীর জন্য। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারেই ফিরে যান রহমত আলী। এরপর দ্রুত সাজঘরে ফেরেন জাকের আলী অনিকও। মাত্র ৩৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দলটি।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
ক্রিজে এসে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন হাসান ইসাখিল। শুরুতে সময় নিয়ে খেলেন, বুঝে নেন উইকেটের আচরণ। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক হায়দার আলী খেলেন দারুণ পরিণত ইনিংস, ঝুঁকি না নিয়ে ধরে রাখেন রানের গতি।
এরপর ধীরে ধীরে রূপ নিল ঝড়ের।
ইসাখিলের ব্যাট থেকে বের হতে থাকে চার–ছক্কার ফুলঝুরি। মাঠের চারপাশে বল উড়তে থাকায় দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন এক অনবদ্য ব্যাটিং প্রদর্শনী। মাত্র ৭০ বলে পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সেঞ্চুরি—৪টি চার আর ১০টি বিশাল ছক্কায় সাজানো এক রাজকীয় ইনিংস।
বিপিএলের ইতিহাসে তিনিই প্রথম আফগান ব্যাটসম্যান যিনি শতক হাঁকালেন—এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এক নতুন রেকর্ডও।
শেষ পর্যন্ত ৭২ বলে অপরাজিত ১০৭ রান করে মাঠ ছাড়েন ইসাখিল। অন্যদিকে হায়দার আলী ৩২ বলে ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে নিশ্চিত করেন দলের বড় সংগ্রহ।
শেষ পাঁচ ওভারে নোয়াখালীর ব্যাটিং রূপ নেয় ভয়ংকর রূপে—দ্রুত রানের বন্যায় ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ১৭৩ রান।
রংপুরের হয়ে নাহিদ রানা ও আলিস আল ইসলাম একটি করে উইকেট নিলেও নোয়াখালীর ব্যাটিং ঝড় থামাতে পারেননি কেউই।
এই জুটিই যেন বলে দিল- নোয়াখালী এক্সপ্রেস শুধু একটি দল নয়, এখন তারা একটি বার্তা:
“আমরা এসেছি শিরোপার লড়াইয়ে দাপট দেখাতে!”





