বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সবসময়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ে। তেমনই এক মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলন ‘এডস ২০২৬’ (AIDS 2026)। এ বছর ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ও রূপসী নগরী রিও ডি জেনেইরোতে ২৬ জুলাই থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বমানের এই সম্মেলন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই বিশ্ব সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো এইচআইভি (HIV) ও এইডস (AIDS) নির্মূলে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বৈশ্বিক কৌশল নির্ধারণ করা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করতে এবং বৈশ্বিক হেলথ রিপোর্টিংকে সমৃদ্ধ করতে এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক আলী আসিফ শাওন।
ব্রাজিলে ‘এডস ২০২৬’ সম্মেলন ও বাংলাদেশের উপস্থিতি
দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের চিফ রিপোর্টার আলী আসিফ শাওন আন্তর্জাতিক এইড্স সোসাইটির (IAS) আমন্ত্রণে এবং আয়োজক সংস্থার সরাসরি স্পন্সরশিপে এই সফরে ব্রাজিলে অবস্থান করছেন। ২৬ জুলাই ব্রাজিলের স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুরু হওয়া ২৬তম এই আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।
১০ দিনের এই দীর্ঘ সফরে তিনি শুধু সম্মেলনের মূল পর্বগুলোই অনুসরণ করছেন না, বরং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরছেন।
বিশ্ব এইডস সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্য
‘এডস ২০২৬’ সম্মেলন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সভা নয়; এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য গবেষক, নীতিনির্ধারক, অধিকারকর্মী ও চিকিৎসকদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার বৃহত্তম একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। এবারের সম্মেলনের আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:
- নতুন গবেষণার তথ্য প্রকাশ: এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে উদ্ভাবিত নতুন ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহারের সফলতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
- প্রতিরোধ ও আধুনিক চিকিৎসা: এইডস আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করার আধুনিক গাইডলাইন চূড়ান্ত করা।
- স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিতকরণ: অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেন স্বল্পমূল্যে ও সহজে এইডসের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পৌঁছাতে পারে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের পথনকশা তৈরি।
- অর্থায়নের সংকট মোকাবিলা: আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য তহবিলের সংকট কাটাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সাংবাদিকতায় আলী আসিফ শাওনের অভিজ্ঞতা
সাংবাদিকতা পেশায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন আলী আসিফ শাওন। তিনি দৈনিক মুখপাত্র ও দৈনিক এই আমার দেশ-এর প্রধান সম্পাদক আলী কদর পলাশের একমাত্র পুত্র।
মূলধারার সাংবাদিকতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পেশাগত কাজের অংশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বিশেষ আহ্বানে এর আগে তিনি জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন’-এ অংশ নেন। সেখানে বৈশ্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
এছাড়াও পেশাগত অভিজ্ঞতা বাড়াতে তিনি ইতিপূর্বে রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক এসব সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান তিনি নিয়মিত প্রয়োগ করছেন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে।
কেন এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিশ্ব এইডস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। যদিও বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম, কিন্তু সঠিক সচেতনতার অভাব এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহায়তা তহবিলের পরিবর্তনের কারণে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ব্রাজিলের এই সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও নতুন গবেষণাগুলোর খবর সরাসরি বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে
১. দেশের স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে।
২. সাধারণ পাঠকরা এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে বিশ্বমানের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জানতে পারবেন।
৩. জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক পলিসি ব্যবহারে নীতিনির্ধারকদের সুবিধা হবে।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে আয়োজিত ‘এডস ২০২৬’ সম্মেলন বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিক আলী আসিফ শাওনের সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল তাঁর পেশাগত ঝুলিকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের খবরাখবর বাংলাদেশের পাঠকদের সামনে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে তুলে ধরতেও এক বড় ভূমিকা পালন করবে।




