বাজেট উপস্থাপনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত পরশু বাজেট ঘোষণার পর দেশের বাজারের এই ইতিবাচক পরিস্থিতিকে তিনি ‘জনগণের পক্ষের বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এক নজরে ২০২৬ বাজেটে চিকিৎসার খরচ হ্রাস
সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে এবারের বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপকরণের ওপর থেকে ট্যাক্স বা কর কমানো হয়েছে। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হলো:
| চিকিৎসার খাত | করের পরিবর্তন | সাধারণ মানুষের সুবিধা (আনুমানিক) |
| किडनी ডায়ালাইসিস | কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার | প্রতি ডায়ালাইসিসে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা সাশ্রয় হবে। |
| হার্টের বাইপাস ও স্টেন্টিং | কর উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস | সোয়া লাখ টাকার খরচ কমে এখন ৫০-৬০ হাজার টাকায় নামবে। |
| চোখের লেন্স | কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার | বয়স্ক ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের চোখের চিকিৎসায় বড় সাশ্রয় হবে। |
প্রধানমন্ত্রীর পত্রিকার খবর ও বাস্তব অভিজ্ঞতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসভায় তার সকালের একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন পত্রিকাগুলো দেখলাম। সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে এবার বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, যে বাজেট উপস্থাপন করলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না, সেই বাজেটই হলো প্রকৃত অর্থে জনগণের পক্ষের বাজেট।
কিসের ওপর ট্যাক্স বাড়ল? বিরোধীদের কড়া সমালোচনা
বাজেটের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ মিছিলের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিংবা ওষুধের ওপর কোনো কর বাড়ানো হয়নি, বরং কমানো হয়েছে।
- ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে: শুধুমাত্র সিগারেট ও মদের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন: যারা এই জনকল্যাণমুখী বাজেটের বিরোধিতা করে ‘মানি না, মানবো না’ বলে রাজপথে মিছিল করছে, তারা আসলে কিসের প্রতিবাদ করছে? তারা কি তবে মদ আর সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর প্রতিবাদ করছে?
তিনি বলেন, যারা মদের ওপরে এবং সিগারেটের ওপরে ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিক্ষোভ করে, তারা কখনো জনগণের বন্ধু বা জনগণের জন্য রাজনীতি করতে পারে না। তারা মূলত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিরোধী।
অতীত রাজনীতি ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রসঙ্গ
নির্বাচনের আগের দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আগে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ‘টিকিট’ বিক্রি করতো বা মিথ্যা আশ্বাস দিতো। কিন্তু এখন তারা আর টিকিটের কথা বলে না। কারণ, জনগণকে দেওয়ার মতো কোনো ক্ষমতা বা মালিকানা তাদের হাতে নেই। তারা কেবল জনগণকে ঠকিয়ে এবং বিভ্রান্ত করে ভোট নিতে চেয়েছিল।
কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না (সংরক্ষিত সংসদ সদস্য) সহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি দিনব্যাপী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন:
- পাতলী খাল পুনঃ খনন: দিনের শুরুতে তিনি এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: পেকুয়ায় নতুন পৌরসভা এবং সন্ধ্যায় মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- শহীদ পরিবারের খোঁজ: শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।




